


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ডিজে, তাসা, ঢাক-ঢোল সবই ছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও গাড়িতে করে হাজির হয়েছিলেন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। তাঁদের জন্য ছিল বিপুল খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও। শনিবার সাড়ম্বরেই খড়্গপুর এসডিও অফিসে মনোনয়ন জমা দিলেন খড়্গপুর মহকুমার আটটি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীরা। তাঁদের উৎসাহিত করতে উড়ে এসেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন মন্ত্রী জেপিএস রাঠোর। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নন্দীগ্রামের ‘দাদা’ও। যদিও মনোনয়ন পর্ব শেষ হতেই নন্দীগ্রামের দাদা কলকাতায় পাড়ি দেন। কথা থাকলেও, মেদিনীপুর সদর মহকুমার চার প্রার্থীর মনোনয়নে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সেখানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
এর আগে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। পাল্টা দিলীপবাবুর মনোনয়নে উপস্থিত থেকে সৌজন্যের বার্তা দেন নন্দীগ্রামের ‘দাদা’। দিলীপবাবু ছাড়াও এদিন মনোনয়ন জমা দেন খড়্গপুর গ্রামীণের বিজেপি প্রার্থী তপন ভুঁইয়া, ডেবরার প্রার্থী শুভাশিস ওম, সবংয়ের প্রার্থী অমল পন্ডা, পিংলার প্রার্থী স্বাগতা মান্না, নারায়ণগড়ের প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি, দাঁতনের প্রার্থী অজিত জানা এবং কেশিয়াড়ির প্রার্থী ভদ্র হেমব্রম। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে তাঁরা খড়্গপুর এসডিও অফিসে মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়নের শোভাযাত্রা শুরু হয় শহরের গোলবাজারের রামমন্দির প্রাঙ্গণ থেকে। সকাল ১০টায় শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা শুরু হয় ১২টা নাগাদ। আর তা শেষ হয় দুপুর ২টো নাগাদ। তীব্র গরম আর রোদে হাঁসফাঁস করতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও গাড়িতে এসেছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এসডিও অফিস সংলগ্ন ট্রাফিক মাঠে। এদিন বিজেপির তরফে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বার বার অসহযোগিতার অভিযোগ করা হয়। তবে এদিন বিজেপি কর্মীদের খাওয়াদাওয়ার জন্য পানীয় জলের একাধিক ট্যাঙ্কার দেয় খড়্গপুর পুরসভা। যা নিয়ে কটাক্ষও করেছেন পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। তিনি বলেন, এই পানীয় জল নিয়ে ওদের কত অভিযোগ! খড়্গপুর শহরে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনকে কটাক্ষ করে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন, ওদের প্রার্থী দিলীপ ঘোষও বহিরাগত। আর তাঁর মনোনয়নে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরাও বহিরাগত। শুনলাম, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী এসেছিলেন। লোকজনও সব বাইরে থেকেই এসেছিল। পাল্টা বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, ঝাড়গ্রামেও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। শুধু দেখতে থাকুন, এবার কোন স্টাইলে ভোট হয়! এদিনের জনসমাগম দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায় দিলীপবাবু সহ বিজেপি প্রার্থীদের। এদিন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এবার বিদায় নেবে। বিশ্বাস আর বিকাশের সরকার তৈরি হবে। পাল্টা প্রদীপবাবু বলেন, ওরা একুশ সাল থেকেই আশা দেখছে। আশা পূরণ আর হবে না। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সরকারই থাকবে। • দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে গেলেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ।