


সংবাদদাতা, বোলপুর: একদিকে শতভাগ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে, অন্যদিকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মেয়ের সমস্ত দায়িত্ব একাই সামলে এসেছেন তিনি। কিন্তু, আধার কার্ড না থাকায় সরকারি ভাতা ও অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বীরভূমের কীর্ণাহার থানার বালিয়ারা গ্রামের দাস পরিবার। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও এখনও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। যদিও জেলা প্রশাসনের তরফে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কীর্ণাহারের বালিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ৫৮ বছরের চিন্তারানি দাস জন্ম থেকেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীতার শিকার। পরিবারের দাবি, তিনি নিজে চলাফেরা ও কথা বলতে অক্ষম। হাত-পায়ের আঙুল বেঁকে গিয়েছে। দৃষ্টিশক্তিও কার্যত নেই। বিছানাতেই দিন কাটে তাঁর। এতদিন বাবা আনন্দ দাস ও মা বাদুলি দাস মিলে মেয়ের দেখাশোনা করতেন। কিন্তু, প্রায় এক বছর আগে আনন্দবাবুর মৃত্যুর পর সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে বৃদ্ধা মা বাদুলিদেবীর উপর। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল।
এতদিন সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা এবং রেশনই ছিল এই পরিবারের প্রধান ভরসা। সম্প্রতি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিংক না থাকায় ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় আধারের সঙ্গে নথি সংযুক্ত না হলে লেনদেন চালানো যাবে না।
পরিবারের দাবি, বহুবার বিভিন্ন আধার নিবন্ধন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও চিন্তারানির বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া যাচ্ছে না, চোখের স্ক্যানও করা যাচ্ছে না। ফলে আজও তাঁর আধার কার্ড তৈরি হয়নি। চিন্তারানিদেবীর ভাইপো সুমন্ত দাস বলেন, কোলে করে বহু জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু, শারীরিক অবস্থার কারণে কোথাও আধার কার্ড করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকারি ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। এই সমস্যার সমাধানের আশায় ইতিমধ্যেই নানুরের বিডিও, বোলপুর মহকুমা শাসক সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছেও পৌঁছেছে।
বৃদ্ধা বাদুলিদেবী বলেন, সারা জীবন মেয়েকে আগলে রেখেছি। যত কষ্টই হোক, ওকে ফেলে দিতে পারিনি। এখন ভাতাটুকুও বন্ধ হয়ে গেলে খাবার আর ওষুধের ব্যবস্থা করব কীভাবে?
এবিষয়ে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, এসম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম মেনে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।