


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুনের ঘটনায় জামিন পাওয়া এক অভিযুক্তের বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও শেষ রক্ষা হল না। গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত কার্তিক সোনকার ওরফে খরগোশকে বিহারের বক্সার থেকে গ্রেপ্তার করল উত্তর বন্দর থানা। ভায়রা ভাইকে খুনের জন্য সে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে বিহার থেকে বন্দুক কিনেছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই বন্দুক কোথায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
৩০ আগস্ট উত্তর বন্দর থানা এলাকার স্ট্র্যান্ড ব্যাংক রোডে শ্যুটআউটের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিবাদের কারণে ভায়রাভাই সন্তোষ চৌধুরীকে গুলি করে খরগোশ। এরপর সে বাইকে করে পালিয়ে যায় বিহারের জেহানাবাদে। তার সঙ্গে ছিল আরেক অভিযুক্ত রোহিত সাউ। রোহিতকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করে উত্তর বন্দর থানা। সেখানে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত একজনের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল খরগোশ। কলকাতা পুলিশ যে তল্লাশি চালাতে বিহারে যাচ্ছে, সেই খবর আগাম পেয়ে যায় সে। তারপর পালিয়ে বক্সারে চলে যায় খরগোশ।
বক্সারের কোন অপরাধীর কলকাতা যোগ রয়েছে, তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত অভিষেক চৌবের বাড়ি বক্সারে। সে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বছর দশেক আগে রিজেন্ট পার্ক এলাকায় একটি খুনের ঘটনায় সে ধরা পড়েছিল। তখন তাকে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়েছিল। ছিনতাইয়ের কেসে গ্রেপ্তারের পর খরগোশকেও রাখা হয়েছিল ওই সংশোধনাগারে। সেখানেই পরিচয় হয়েছিল ওই দুষ্কৃতীর। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বক্সারে চলে যায় অভিষেক। এরপর উত্তর বন্দর থানার টিম বক্সারে গিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সূত্র মারফত তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিষেকের বাড়িতেই লুকিয়ে রয়েছে খরগোশ। এরপর রবিবার ওই বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে খরগোশ জানিয়েছে, ভায়রাভাইকে গুলি করার জন্য সে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে বিহার থেকে অস্ত্র কিনেছিল।