


সংবাদদাতা, কাঁথি: বৃহস্পতিবারও দীঘা সহ উপকূলজুড়ে প্রবল বৃষ্টি আর দুর্যোগ অব্যাহত রইল। বেলা বাড়তেই বৃষ্টি আর দমকা ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। দিনভর জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিনও দীঘার সমুদ্রে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সমুদ্র অশান্ত থাকায় স্নানের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আর কড়া নজরদারি রয়েছে। তার মধ্যেই এদিন দীঘার সমুদ্রে পরিবারে লোকজনের সঙ্গে স্নান করতে নেমে এক কিশোরী তলিয়ে যায়। কাশমিরা খাতুন (১৪) নামে ওই কিশোরীর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির শিবদাসপুর থানার দোগাছিয়া এলাকায়। বিকালে দীঘা হাসপাতাল ঘাটে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে স্নান করতে নামে ওই কিশোরী। একসময় সকলে জল থেকে উঠে এলেও দেখা যায়, কাশমিরা নেই। তখন বাড়ির লোকজন পুলিশ ও নুলিয়াদের বিষয়টি জানান। এরপর নুলিয়া ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা স্পিড বোট নামিয়ে খোঁজ চালান। যদিও রাত পর্যন্ত কিশোরীর খোঁজ মেলেনি। এদিন সমুদ্রের পাড়ে নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনদিন আগেই মন্দারমণির সমুদ্রে স্নানে নেমে তিনজনের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দীঘায় দুর্ঘটনা। অতি গভীর নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপট্টনমের আশপাশ দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করে। কিন্তু নিম্নচাপের প্রভাবে দীঘায় আবহাওয়া খারাপ থাকায় মাইকিং করে এবং হুইসল বাজিয়ে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে বারণ করা হচ্ছিল। বারবার পর্যটকদের নিরাপদে থাকার কথা বলা হয়। বিকালের দিকে বৃষ্টি একটু কমতেই অত্যুৎসাহী অনেক পর্যটক স্নানে নেমে যান। সেখানে কীভাবে ওই কিশোরী তলিয়ে গেল, সেটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিন সকাল থেকে দীঘা সহ সর্বত্র জলোচ্ছ্বাস চলতে থাকে। এদিন সমুদ্রে উঁচু উঁচু ঢেউ গার্ডওয়ালে ধাক্কা মারে। গার্ডওয়াল টপকে জল সৈকতসরণি এমনকী মূল রাস্তায়ও চলে আসে। উৎফুল্ল পর্যটকরা অনেকেই তাতে গা ভেজান। আবার অনেকে দূর থেকেই সমুদ্রের ভয়ঙ্কর রূপ প্রত্যক্ষ করেন। এদিকে শুধু দীঘা নয়, বৃষ্টি আর সমুদ্র উত্তাল থাকায় বিপর্যস্ত গোটা উপকূল। জলোচ্ছ্বাসের জেরে তাজপুর, শংকপুর ও মন্দারমণি ফের বিপর্যস্ত। তাজপুরের সমুদ্রপাড় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। দোকানপাটগুলিতে এমনকী হোটেলগুলিতেও জল ঢুকে পড়ে। একইভাবে মন্দারমণিতেও সমুদ্রের জল অনেক হোটেলে ঢুকে পড়ে। জলোচ্ছ্বাসের জেরে তাজপুর, শংকরপুর সহ সর্বত্রই সমুদ্রপাড় ভাঙন আরও বেড়েছে। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, প্রতিটি ব্লককে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। আমরা প্রতি মুহূর্তে খবর রাখছি। দুর্যোগ কমলে যেখানে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, খতিয়ে দেখা হবে।