


শোভন গঙ্গোপাধ্যায়: তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকা আমার ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা নেই। এই সম্পর্কে আমার যাবতীয় অভিজ্ঞতা আমার পারিবারিক সূত্রে। আমি যেহেতু ছোটবেলা থেকেই ঠিক করি, গান-বাজনাকেই আমি পেশা করব, তা নিয়ে আমার মা-বাবাও খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের কিছু মানুষ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা কাটছেঁড়া করেছেন। আমরাও একটু বিভ্রান্ত হয়েছি। আবার এই পরিবারেরই পিসি-পিসেমশাই, এঁদের খুবই সমর্থন ছিল। তাই কেরিয়ারের দিক থেকে জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির সমর্থনও পেয়েছি আবার বিরোধিতাও পেয়েছি। কোনওদিনই প্রত্যক্ষভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে আমার জীবনে আমি প্রবেশ করতে দিইনি। এমনকী, সম্পর্কেও আমার ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি। তবে অনেকের বেলায় দেখেছি, সম্পর্কে তৃতীয় কেউ কিছু মত দিচ্ছেন, তাঁর কথা শুনেই একজন নিজের সম্পর্ককে সেভাবে লালন করছেন। আমার মনে হয় সম্পর্কটা যাঁদের, যে কোনও সিদ্ধান্ত শুধু তাঁদেরই নেওয়া উচিত। তবে আমার বেশ কিছু বন্ধুর ক্ষেত্রে দেখেছি, সম্পর্কের খুব খারাপ সময়ের মধ্যে আছে কেউ, সে হয়তো বাইরের কারও সাহায্য চাইল। অন্য বন্ধুদের কেউ হয়তো নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, নিজের মত ও বুদ্ধি দিয়ে তাকে সাহায্যও করল। তাতে আবার তার ভালো হতেও দেখেছি। কাজেই সম্পর্কে তৃতীয় কেউ প্রাধান্য পেলেই যে তা সবসময় খারাপ, এমন নয়।
তবে আশপাশের বহু ‘আদর্শ সম্পর্কে’ও দেখেছি, তৃতীয় কারও উপস্থিতিতে সংসার তছনছ হয়েছে। তাই আমি ও আমার স্ত্রী (সোহিনী সরকার) এই বিষয়ে খুবই সচেতন। আমাদের দু’জনেই একটা দল ও সেই দলে যাতে কারও অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেই বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকি। এখন আসলে তৃতীয় জনের প্রবেশ করার মাধ্যম অনেক বেড়ে গিয়েছে। তার উপর আমরা বিনোদন জগতের মানুষ। আমাদের জীবনের অনেক কিছু নিয়েই নানা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ায়। তাই অনেক সময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুব জটিল হয়ে পড়ে। সে কারণেই দু’জনকে খুব বন্ধু হতে হয়। নিজেদের বোঝাপড়া শক্তপোক্ত রাখতে হয়। প্রতিদিন তো সব কথা পুঙ্খানুপুঙ্খ সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করা যায় না। তবে আস্থা ও বিশ্বাস অনেকটা রাখতে হয়।
আমার জীবন নিয়েও নানা সময় নানা কথা রটেছে। আমি নিজে জানতাম, আমার জীবনে কখনও তৃতীয় ব্যক্তি এসে আমার কোনও প্রেম ভেঙে দেননি। যা ভেঙেছে তা নানা অন্য কারণে ভেঙেছে। যা কিছু সূচনা হয়েছে তাও সময়ের দাবি মেনে ব্যক্তিগত ভালোলাগা থেকেই শুরু হয়েছে। আমিও তেমন কারও জীবনে ‘তৃতীয়’ হয়ে প্রবেশ করছি বা ‘তৃতীয় জন’ হিসেবে গণ্য হচ্ছি এমন ঘটনাও ঘটেনি। সম্পর্কে অন্যের নাক গলানো বা জীবনে অন্য কেউ এল বলে সঙ্গীকে ছেড়ে যাওয়া এসব নিয়ে আমি খুব সচেতন। আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে বন্ধুত্বও অনেক বেশি। আমরা দু’জনেই বর্তমানে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে খুব সুখী।