


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: উত্তর-পূর্ব ভারত তথা গোটা দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তাক্ষেত্রের অন্যতম ‘চিকেনস নেক’। এই করিডররের সুরক্ষায় ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে শুক্রবার শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শনিবার তাঁর নির্ধারিত বৈঠকে ‘চিকেনস নেক’ শিলিগুড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে বলে খবর। এদিকে, কখনও সীমান্তের জমি অধিগ্রহণ, আবার কখনও সিএএ, বিএনএস ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত-পা ধরে ক্লান্ত হয়ে গেলেও জমি মেলেনি। এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জমি দিচ্ছেন। চিকেন নেকের সুরক্ষায় নতুন করে আরও ৫৬০ একর জমি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দু’দিনের শিলিগুড়ি সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন সকালে তিনি এসএসবির উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তর রানিডাঙায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানেই কৌশলগত করিডর শিলিগুড়ির সুরক্ষা জোরদার করার কথা জানান। বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যকে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে জুড়েছে এই করিডর। ভৌগোলিক দিক থেকে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এজন্যই এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ইতিমধ্যে ‘চিকেনস নেক’এর সুরক্ষায় ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়া হয়েছে। এজন্য চোপড়া, কিষানগঞ্জ ও ধুবড়ি থেকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া, বিহারের কিষানগঞ্জ ও অসমের ধুবড়ি এই তিনটি এলাকাই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী। ধূবড়ি বাদে বাকি দু’টি এলাকা থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল এবং চীন সীমান্তের দূরত্বও খুব বেশি নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি থেকে বিভিন্ন সময় জেহাদি ও জঙ্গি সংগঠনের সংস্রব মিলেছে, এমনকি গ্রেপ্তার হয়েছে পাক চরও। তাই অঞ্চলগুলিতে নজরদারি বাড়াতে এবং চিকেন নেককে সুরক্ষা দিতে এলাকাগুলিতে সেনা ছাউনি তৈরি করা হয়েছে।
এদিন এসএসবির অনুষ্ঠানে কিষানগঞ্জ, ঠাকুরগঞ্জ ও এনজেপিতে ব্যারাক, জওয়ানদের কোয়ার্টারের শিলান্যাস করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সবমিলিয়ে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এখানেই সীমান্তের জমি ইস্যুতে সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত-পা ধরে ক্লান্ত হয়ে গেলেও, সীমান্তের জন্য জমি মেলেনি। একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজে এসেছিলাম। তাঁকে বলেছিলাম, বিজেপি নয়, বিএসএফের জন্য জমি দিন। কোনো লাভ হয়নি। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ১১২৯ একর জমির মধ্যে ১১০০ একর জমি প্রদান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অধিগ্রহণের টাকা দিলেই বাকি ২৯ একর জমি প্রদান করবে রাজ্য সরকার।
এদিন বিকেলে শহর সংলগ্ন কাওয়াখালিতে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা নিয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, সিপিএমের সময় এখানে ক্যাডাররাজ ছিল। তৃণমূল জমানায় এখানে গুন্ডাদের ক্যাডাররাজ চলেছে। এখন রাজ্যে আইনের শাসন চালু হয়েছে। বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। দু’টি অনুষ্ঠানেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও দার্জিলিংয়ের এমপি রাজু বিস্তা। ন্যায়সংহিতার প্রদর্শনীতে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ রাজ্যে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা প্রমুখ।