


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হাই সুগারের অনেক রোগীকেই নিয়মিতভাবে আঙুল ফুটিয়ে রক্ত বের করে শর্করার মাত্রা জানতে হয়। কখনও কখনও দিনের মধ্যে একাধিকবার পরীক্ষা করতে হয়। এজন্য রোগীদের একটি বড় অংশ বাড়িতে বসে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন। এতে রক্তে শর্করার সঠিক মাত্রা পাওয়া যায় ঠিকই। কিন্তু এই পদ্ধতি বেশ যন্ত্রণাদায়ক। হাই সুগারের রোগীদের নিত্যদিনের এহেন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে এবার উদ্যোগী আইআইটি মাদ্রাজ। এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক পরশুরামন স্বামীনাথন এবং তাঁর সহযোগী এল বালামুরুগান আবিষ্কার করেছেন এমন এক যন্ত্র, যার মাধ্যমে বিনা রক্তপাতেই রক্তে শর্করার ‘রিয়েল টাইম’ মাত্রা জানা সম্ভব হবে। ঘড়ির মতো ওই বিশেষ যন্ত্র হাতে পরে নিলেই রোগী জানতে পারবেন, তাঁর সুগার কত! ঘড়ি সদৃশ ওই যন্ত্রে ব্যবহার করা হবে একটি মাইক্রো-নিডল সেন্সর। সেটিই ব্যবহারকারীর রক্তে শর্করার সঠিক মাত্রা জানিয়ে দেবে মুহূর্তের মধ্যেই।
অভিনব এই যন্ত্রের আবিষ্কারকদের দাবি, বর্তমানে বাজারে রক্তে সুগারের মান নির্ধারণের জন্য হরেক রকম স্মার্ট ওয়াচ পাওয়া যায়। তাতে আঙুল ফুটিয়ে রক্ত বের করতে হয়। কিন্তু স্মার্ট ওয়াচের দামও যেমন বেশি, তেমনই তা সবসময় ‘রিয়েল টাইম’ মাত্রাও দেয় না। বিশেষত যেসব ডায়াবেটিসের রোগীকে নিজে নিজেই ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয়, তাঁদের জন্য সুগারের সঠিক মাত্রা জানতে পারা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ এই নয়া যন্ত্র তুলনায় অনেক কম দামে সহজলভ্য হতে চলেছে। পাশাপাশি এর ফলাফলও হবে একেবারে যথাযথ। স্বাভাবিকভাবেই একে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং আকর্ষণীয় আবিষ্কার বলে মনে করা হচ্ছে।
অধ্যাপক স্বামীনাথনের দাবি, ‘সেলফ মনিটরিং অব ব্লাড গ্লুকোজে’র (এসএমবিজি) পদ্ধতিতে আঙুল ফুটিয়ে রক্ত বের করতে হয়। এই ‘কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং’ (সিজিএম) প্রক্রিয়াতে তাঁদের আবিষ্কার করা ‘ঘড়ি’ বিশেষ কার্যকর হতে চলেছে। বাজার চলতি স্মার্ট ওয়াচে তা সম্ভব নয়। মাইক্রো-নিডল সেন্সরের মাধ্যমে শর্করার মান নির্ধারণ করে তা ঘড়িতে বসানো ইলেক্ট্রো-থার্মোক্রমিক ডিসপ্লের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে যন্ত্র। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই মুহূর্তে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ রক্তে শর্করাজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইতিমধ্যেই এর পেটেন্ট নেওয়া হয়েছে। সামান্য পরীক্ষানিরীক্ষা বাকি রয়েছে। তারপরেই এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর ব্যাপারে পদক্ষেপ হবে।