


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আগামী ২৬ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খড়গ্রামে জনসভা করবেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় খড়গ্রাম থেকেই তিনি প্রচার শুরু করবেন। তৃণমূল প্রার্থী আশিস মার্জিতের হয়ে তিনি ভোটের আবেদন করবেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি এই জেলায় হরিহরপাড়া বিধানসভা থেকে প্রথম প্রচার শুরু করেছিলেন। তবে, এবছর জেলার সম্পূর্ণ বিপরীত প্রান্তের এই বিধানসভা থেকে প্রচারের মাধ্যমে তিনি জনসংযোগ করবেন। খড়গ্রামের নগরের পীরতলা মাঠে তিনি জনসভা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই পুলিশি বন্দোবস্ত শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা ঘিরে ব্যাপক উৎসাহী হয়ে রয়েছেন।
আশিসবাবু বলেন, আমি আন্তরিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি খড়গ্রাম থেকেই এই জেলার নির্বাচনি প্রচার শুরু করছেন। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকে আমার লাগাতার প্রচার চলছে। এখন এই প্রচারের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এছাড়া ২৯ মার্চ নওদায় জনসভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নওদার তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ খানের হয়ে একটি জনসভা করার কথা রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। জোড়া ফুল শিবির সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার মুর্শিদাবাদের একের পর এক জনসভা করবেন। সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্তত আটটি জনসভা করার কথা দু’জনের রয়েছে। প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো এবং দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের জনসভা করার জন্য ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, খড়গ্রাম বিধানসভা আমাদেরই সাংগঠনিক জেলার মধ্যে পড়ে। ওখানকার আমাদের দলীয় প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক খুব সহজেই জয়লাভ করবেন। আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জেলায় প্রথমেই এই আসনেই প্রথম জনসভা করবেন। সাধারণ মানুষ তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে আছেন।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, শাসক দল এমন উন্নয়নের কাজ করেছে, যে দলের প্রধানকে বারবার প্রচারে আসতে হচ্ছে। উনি প্রচারে আসছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু, ওখানকার তৃণমূল প্রার্থীর বিভিন্ন দুর্নীতির কাহিনি যেন ওই জনসভা থেকে তিনি বলেন। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় আমরা খুব ভালো ফলাফল করব। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আসছেন এই জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় প্রচার করতে। শুধু নির্বাচন বলেই তাঁরা আসছেন, এমনটা নয়। প্রতিবছরে অন্তত দু’বার করে জেলা সফর করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কয়েক মাস আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই জেলা থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করে গিয়েছেন। বিজেপির নেতাদের মতো নয়, যাঁরা বসন্তের কোকিলের মতো শুধু নির্বাচনের সময় বাংলায় আসেন, নির্বাচন ফুরালে হাওয়া হয়ে যান।