


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে হোম চলছে বছরের পর বছর। অথচ কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। শনিবার রাতে বেদিয়াপাড়ার ওই হোমের আবাসিকরা চম্পট দিতেই প্রকাশ্যে আসে অবৈধ কারবারের রমরমা। রবিবার রাতে নাগেরবাজার থানার পুলিশ হোমের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত হোম মালিকের নাম প্রসূন দাস। মোট ৯ জন পলাতক আবাসিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা প্রসূন দাস ওই এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীনদের একটি হোম চালাতেন। অভিযোগ, আবাসিকদের পরিবারের থেকে মোটা টাকা নেওয়া হলেও তাদের সঠিকভাবে খাবার ও ওষুধ দেওয়া হত না। এমনকি, মাঝেমধ্যে তাদের মারধরও করা হত বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে ওই হোমের কেয়ারটেকার লাল্টু দাসকে মারধর করে আটজন মানসিক ভারসাম্যহীন হোম থেকে বেরিয়ে যান। ঘটনার খবর থানায় পৌঁছাতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই কেয়ারটেকার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পালটা আবাসিকদের পরিবারও হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। তাতে সঠিকভাবে খাবার না দেওয়া, গরম খাবার গায়ে ছিটিয়ে দেওয়া, মারধর, সঠিকভাবে ওষুধ দেওয়া হত না বলে অভিযোগ করা হয়। রবিবার দিনভর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ন’জন আবাসিককে উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দু’জনকে পাভলভ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেআইনিভাবে হোম পরিচালনা এবং আবাসিকদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হোমের মালিক প্রসূন দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।