


হিউস্টন: ২০২১ সালের জুলাই মাস। ফ্রান্সের লরিয়ঁ শহরে এক শান্ত বিকেলে দরজায় কড়া নাড়লেন মহিলা। আবদার, অটোগ্রাফ চাই। ফুটবলার ইয়োয়ান উইসা তাতে আপত্তি করেননি। মহিলা তখন চলে গেলেও, রাতে আবার এলেন। কিন্তু এবার দরজা খোলার পর যা ঘটল, কখনও ভুলতে পারবেন না উইসা। তাঁর চোখে মুখে উড়ে এল অ্যাসিড। এবং সেই মহিলা ফুটবলারের মেয়েকে অপহরণ করার চেষ্টা করলেন। স্ত্রী কাহিনা ছুটে আসায় তা সম্ভব হয়নি ঠিকই। তবে উইসা ততক্ষণে যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, চোখ পুড়ে গিয়েছে। সেই ক্ষত সারতে একমাস কেটে যায়। কিন্তু উইসার ভিতরের ক্ষত রয়েই গিয়েছিল। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলছিলেন, ‘রাতে ঘুমাতে পারতাম না। অচেনা কাউকে সহ্য করতে পারতাম না। কিন্তু কঠিন সময়ে স্ত্রী পাশে ছিল। সাইকোলজিস্টের একাধিক থেরাপি সেশনের পর কিছুটা ভয় কেটেছিল। কিন্তু পুরোপুরি নয়।’
কাট টু ২০২৬ সালে ১৭ জুন। দীর্ঘ ৫২ বছর পর কঙ্গো ফের বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। এবং ষষ্ঠ মিনিটেই গোল হজম করেছে আফ্রিকার দেশটি। হারের হাতছানি স্পষ্ট। কিন্তু এই কঠিন সময়ে জ্বলে উঠলেন দলের স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে দুরন্ত হেডে সমতা ফেরালেন তিনি। সেই সুবাদে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টে স্বাদ পেল কঙ্গো। আর সেই স্ট্রাইকার কে জানেন? ইয়োয়ান উইসা। একসময় যাঁর মুখ অ্যাসিডে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার হিউস্টনে তিনিই কঙ্গোর আশার প্রদীপ জ্বালালেন। পাঁচ দশক নীরব থাকা একটা জাতির মুখে হাসি ফুটল।