


বলরাম দত্তবণিক,রামপুরহাট: চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় কাদের নাম বাদ গিয়েছে, কাদের নাম বিচারাধীন, তা নিয়ে স্ক্রুটিনি শুরু করল তৃণমূল। এরপরই তালিকা তৈরি করে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারি দিল শাসকদল। কমিশনকে ‘বিজেপির নিয়ন্ত্রাধীন’ বলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আজ, সোমবার থেকে আন্দোলনে নামছে সিপিএম।
তৃণমূলের অভিযোগ, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপি এঁটে উঠতে পারছে না। তাই এসআইআরের নাম করে দু’কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে বাংলা দখল করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে একজনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তা পর্যবেক্ষেণে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বুথ পিছু বিএলএ-২ নিয়োগ করা হয়। মৃত ও স্থানান্তরের সংখ্যাও ‘দিদির দূত’ অ্যাপে আপলোডের পাশাপাশি প্রতিটি বুথেই ফর্ম ফিল আপ থেকে রিসিভ কপি নেন বিএলএ-২’ রা।
শনিবার কমিশনের তরফে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এরপরই বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা অভিযোগ আসতে শুরু করে। বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার হাজার হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীন দেখানো হয়েছে। জনপ্রতিনিধি থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম বিচারাধীন তালিকায়। এমনকি, খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর কোনও হেয়ারিং ছাড়াই অনেককে ডিলিটেড ও অ্যাডজুডিকেশন করা হয়েছে। অর্থাৎ, এরা ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। তাতেই ক্ষোভ ছড়াচ্ছে চতুর্দিকে।
রামপুরহাটের বাসিন্দা সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য কনিজ রবিউল ফতেমাকে বিচারাধীন তালিকায় ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০২ ও ২০২৫ সালের তালিকায় নাম রয়েছে। আমার যদি কোনও ত্রুটি থাকবে তা হলে তো হেয়ারিংয়ের নোটিস দিত। সেটা না দিয়েই চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় আমার নামের উপরে অ্যাডজুডিকেশন স্ট্যাম্প মেরে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন মাড়গ্রামের বাসিন্দা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী সাহারা মণ্ডল। তিনি বলেন, ২০০২ সালে মণ্ডল ছিলাম। বিয়ের পর খাতুন হয়েছি। হেয়ারিংয়ের নোটিস পাওয়ার পর মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার ও আধারকার্ড জমা দিয়েছিলাম। তারপরও ঠিকমতো যাচাই না করেই অ্যাডজুডিকেশন করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন হোসেনের ছেলেমেয়েকে অ্যাডজুডিকেশন করা হয়েছে। মইনুদ্দিনের অভিযোগ, নামের বানান ভুল রয়েছে বলে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়। তাদের অ্যাডমিট কার্ড, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, আধারকার্ড, বংশ তালিকা সহ নানা ডকুমেন্টস জমা করা হয়। তারপরও তাদের অ্যাডজুডিকেশন করা হয়েছে। এরকম অসংখ্য মানুষকে হয় ডিলিটেড নতুবা অ্যাডজুডিকেশন করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, একজন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না। আজ সোমবার থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছি। ২ থেকে সর্বত্র বিডিও অফিস অভিযান হবে। তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির কথা মতো নির্বাচন কমিশন এক কোটি ভোটারকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের জন্য তাঁরা এক কোটি না পারলেও বহু ভোটারকে অ্যাডজুডিকেশনে রেখে দিয়ে বাকিদের সরাসরি ডিলিট করে দিয়েছে। এর মধ্যে ৮০-৯০ শতাংশ বৈধ ভোটার। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যে কোনও সময় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। আমরা ওদেরও ছেড়ে কথা বলব না। মানুষকে নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হব। পাশাপাশি, আন্দোলনও সংগঠিত করা হবে। তবে, এত করেও বিজেপি নির্বাচনে কিছুই করে উঠতে পারবে না।