


• টেক ওয়ান: ওর কথায় কুপোকাত। তিস্তার সম্পর্কে এই ধারণাটা অফিসে চালু রয়েছে। সপ্রতিভ, ঝলমলে চূড়ান্ত পেশাদার, কথার ফুলঝুরি সেই মেয়ের সাজানো সংসার। দাম্পত্যের আদুরে পোস্টে ভরে থাকে সোশ্যাল ওয়াল। তিস্তা দুম করে প্রেমে পড়ল শান্ত এক ছেলের। অফিসে পাশাপাশি বসে কাজ করতে গিয়ে কখন যে নীলাঞ্জনের কম কথা বলা, হাসির মায়ায় জড়িয়ে গেল মেয়ে, তা যখন বুঝতে পারল, জল গড়িয়েছে অনেক দূর। নীলাঞ্জন অবিবাহিত। কিন্তু তিস্তা কি ঘর ভাঙবে? একই অফিসে পাশাপাশি বসে কাজ করা আর সম্ভব ওদের?
টেক টু: বছরের শুরুতে টিম লাঞ্চের ব্যবস্থা করেছিল রাহুল। নতুন ব্র্যাঞ্চে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম সকলের সঙ্গে অফিসের বাইরে কথা বলার সুযোগ হল। আর সেখানেই ছোট চুলের গোমড়া মুখের রিনিকে ভালো লাগল তার। টেক্সট, ফোন কল দিয়ে শুরু যে সম্পর্ক, তা গড়াল আরও ঘনিষ্ঠতায়। রাহুল এবং রিনি দু’জনেরই সংসার রয়েছে। একটা সময়ের পর এই আলগা ভালোলাগা থেকে বেরিয়ে আসাই দু’জনের জন্য হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রিনি খেলল ভিক্টিম কার্ড। ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনে রাহুলকে হেনস্তা করল সে।
টেক থ্রি: অনিন্দ্য এবং গার্গী দীর্ঘদিনের বন্ধু। কলেজ পেরিয়ে রিসার্চ ওয়ার্ক। তারপর মাঠেঘাটে ঘুরে কাজ করতে গিয়েই হঠাৎ প্রেম হল। আজকে এই সেমিনার, তো কালকে এগজিবিশন। ব্যস্ততার মাঝে দেখা হতো কমই। একে অপরের টিম নিয়ে ফিল্ড ওয়ার্কে ব্যস্ত থাকতে থাকতে সংসারের স্বপ্ন বুনত তারা। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পেরনো কুহু যেদিন অনিন্দ্যর টিমে যোগ দিল, সেদিন গার্গীও সেখানে উপস্থিত। সময় গড়াল, অনিন্দ্যর জীবনে গার্গীর মতোই ভরসাস্থল হয়ে উঠল কুহু।
নাম এবং পেশা বদলে দেওয়া উপরের তিনটি ঘটনাই বাস্তব। সম্পর্কের সমীকরণ বড্ড জটিল। কখন যে ফাঁক গলে সেখানে তৃতীয় মানুষ প্রবেশ করবে, তার কোনও ফর্মুলা হয় না। সেই তৃতীয় ব্যক্তির আগমন যদি কর্মক্ষেত্রে হয়, তার দায়বদ্ধতা আলাদা। আবার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর যে তিক্ততা তৈরি হয়, তার দায়ও এড়ানো কঠিন। কখনও তা নির্যাতনের মামলা হিসেবে সামনে আসে। কখনও বা চাকরি হারায় কোনও একজন। যে কোনও ঘটনার কার্যকারণ বিবেচনা করার ক্ষেত্রে মনোবিদ অমিত চক্রবর্তী আগে কারণ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিলেন।
সম্পর্কের পাটিগণিত
তাঁর মতে, তিনটি স্তম্ভের উপর যে কোনও সম্পর্ক গড়ে ওঠে— অন্তরঙ্গতা (ইন্টিমেসি), প্রতিশ্রুতি রক্ষা (কমিটমেন্ট) এবং মোহ (প্যাশন)। বিবাহিত বা প্রেমের সম্পর্ক যত পুরনো হয়, তার ইন্টিমেসি এবং কমিটমেন্টের খুব একটা হেরফের হয় না। বরং সেটা বাড়ে। যত দিন যায় বিশেষত বিয়ে করে ফেললে পুরুষ ও নারীর কাছাকাছি থাকাটা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ফলে ইন্টিমেসি ক্রমশ বাড়তে থাকে। সব ব্যাপারে দু’জন দু’জনের সঙ্গে কথা বলছে। দেখা হচ্ছে। কমিটমেন্টও বাড়তে থাকে। একজন আর একজনের খেয়াল রাখছে। যখন সন্তান হয়, দু’জনের একই আগ্রহের জায়গা তৈরি হয়। তখন দায়বদ্ধতা আরও বাড়তে থাকে। যেটা ফিকে হয়, তা হল প্যাশন। এটা কমতে থাকে। প্রথমদিকের উত্তেজনা, মানসিক এবং শারীরিক প্রেমের আকাঙ্ক্ষা কমতে থাকে। মানসিকভাবে কাছে থাকা, তাকে ছুঁতে পারা, ঘনিষ্ঠতা এবং শারীরিক সম্পর্ক, যৌনতা— প্রবল আকার নেয় মেলামেশার শুরুতে। ধীরে ধীরে সেটা বাড়তে থাকে। এটা অনেকটা সেরকম, ছুটি আসছে মানে একরকম আনন্দ। অনেকদিন ছুটি কাটিয়ে ফেলার পর, তখন যেন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে ছুটির আনন্দ। অতটা আর ভালো লাগছে না। এটাও তাই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্যাশন ক্ষয়ে যায়। সম্পর্কের শুরুর দিকে যে প্যাশন ছিল, সেটা পরবর্তীকালে থাকে না। পরবর্তী কালে নানা সমস্যায় দু’জন দু’জনের সঙ্গে কথা বলতে পারলে সম্পর্কে প্যাশনের খামতি পুষিয়ে যায়।
প্যাশনের রকমফের
অমিতবাবু বললেন, প্যাশন ব্যাপারটা পুরুষ এবং নারীর ক্ষেত্রে আলাদা। ছেলেদের ক্ষেত্রে একটা অভিনবত্বর জায়গা থাকে। একই জিনিস তাদের ভালো লাগে না, একঘেয়ে লাগে। প্রতিদিন একই রকম জড়িয়ে ধরা পুরুষ এনজয় করে না। যৌনতা আসলে এমন একটা বিষয়, যার পুনরাবৃত্তি একটা সময়ের পর একঘেয়ে হয়ে যায়। অথচ এটাকেই মনোবিদরা লাইফ ফোর্স বলেন। কিন্তু একটা সময়ের পর এটা নিয়ম পালনের মতো হয়ে যায়। সেটা থেকে বেরিয়ে নতুন একজনকে ঘিরে যেন আবার একটা প্যাশন জেগে ওঠে। ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের ক্ষেত্রেই এটা ঘটতে পারে। তবে অধিকাংশ পুরুষের চোখে মেয়েরা একটা ‘অবজেক্ট’। মেয়েদের ‘ইরোটিক ক্যাপিটাল’ তাদের আকর্ষণ করে। বুদ্ধি, টাকা, ক্ষমতা সব আসলে পুরুষদের একচেটিয়া। মেয়েরা ওই একটা জায়গাতেই ক্ষমতাশালী। ওখানে তাদের আকর্ষণের ক্ষমতা অনেক বেশি। একে বলে ‘ইরোটিক ক্যাপিটাল’। এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কোনও কোনও সমাজতত্ত্ববিদ এটা মানতে চান না। কিন্তু মেয়েদের একটা আকর্ষণী ক্ষমতা আছে, এটা অগ্রাহ্য করার নয়। সেটা ছেলেদের নেই। ফলে ‘ইরোটিক ক্যাপিটাল’ কাজে লাগায় মেয়েরা। পুরুষ যখন একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার মূল কারণ যৌনতা, অভিনবত্ব। আমার স্ত্রী নয়, তার বাইরে কারও সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগ, এটাই ছেলেদের আগ্রহী করে তোলে।
মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধু যৌনতা নয়। একটা মানসিক যোগাযোগও তৈরি হয়। ধরা যাক, সে স্বামীর কাছ থেকে মানসিকভাবে দূরে রয়েছে। সম্পর্কে এই তৃতীয় ব্যক্তি এসে পড়ায় তার সঙ্গে মেয়েটি যেন আবার মানসিক সংযোগ তৈরি করতে পারছে। একটা লোক তাকে বুঝছে, প্যাম্পার করছে, ছবি পাঠাচ্ছে, তার ছবি তুলছে, তাকে ভালো ভালো কথা বলছে। যেটা মেয়েটির জীবন থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়েছে। প্যাশন কমে যাওয়ার পরে মেয়েটিকে তার স্বামী বা প্রেমিক কিন্তু আর বলে না, তোমাকে তো দারুণ লাগছে! কিন্তু এই তৃতীয় ব্যক্তি সেটা বলছে। ‘আপনি তো দারুণ সেজে এসেছেন’, বা ‘তোমাকে তো ভালো লাগছে’, এগুলো মেয়েরা শুনতে চায়। পুরুষদের সেই চাহিদা নেই।
কারণ অনুসন্ধান
• পুরুষরা মূলত ভাবে, একটা মেয়ে তার প্রেমে পড়ছে, মানে বয়সটাও যেন আরও কমে যাচ্ছে। কমবয়সি একটা মেয়ের কাছে আমি এখনও আকর্ষক। আমাকে এখনও সে চাইছে, এতে পুরুষটির মনে হবে ৪০ থেকে হঠাৎ করে যেন বয়স ৩২ বছর হয়ে গিয়েছে। একজন পুরুষের জীবনে কতজন মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, এটা ‘বীরত্বের প্রতীক’। এই সম্পর্কটা শুধু শারীরিক। এর সঙ্গে কোনও মানসিক যোগ নেই। পুরুষটির কাছে এটা অ্যাচিভমেন্ট। এটা যেন বড় দক্ষতা।
• পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার বড় কারণ ‘ডেড বেডরুম’। বিছানা আছে। কিন্তু সেটা মৃত। দু’জনে পাশাপাশি শোয়। কিন্তু তাদের মধ্যে টান নেই। প্যাশন নেই। বন্ধুত্ব করায় এমন একটি ওয়েবসাইটের দু-তিন বছরের গবেষণার হিসেব দিয়ে মনোবিদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন। সেখানে নাম নথিভুক্ত করা ৯০ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০ শতাংশ মহিলা জানিয়েছেন, তাঁরা বিবাহিত। অর্থাৎ বিবাহিত লোকেদের বড় সংখ্যক মানুষ অন্য সম্পর্কের খোঁজে থাকেন।
• মেয়েদের অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক কারণ নিজের দক্ষতার প্রতি অনাস্থা। গুরুত্ব না পাওয়া। বাড়িতে হয়তো মেয়েটি কোনও গুরুত্ব পাচ্ছে না। স্বামী খোঁটা দিচ্ছে, ‘কিছু কাজ তো করতে হল না। ঘরে বসে জীবনটা কাটালে!’ এই পরিস্থিতিতে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হলে নিজের দক্ষতার প্রতি আস্থা বাড়ে। কাজের জায়গাতেও তাই।
• সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের বড় কারণ হতে পারে দেখনদারি। অর্থাৎ কারও স্বামী অথবা স্ত্রী একটা অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। তাই উল্টো দিকের মানুষটিকেও একই কাজ করতে হবে। এটা একটা জেদে পরিণত হয়। অমিতবাবু জানালেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন বহু উদাহরণ দেখেছেন তিনি। শুধুমাত্র সঙ্গীকে শিক্ষা দেবেন বলে, উল্টো দিকে থাকা মানুষটি বাইরে সম্পর্ক তৈরি করেছেন। প্রতিহিংসাপরায়ণতা থেকে এই মানসিকতার জন্ম।
• একাকিত্ব, অবহেলাও নতুন সম্পর্ক তৈরির বড় কারণ। স্বামী বা স্ত্রী সঙ্গীকে সময় দেয় না। সঙ্গীর দিকে তাকায় না। বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কের জায়গা নেই। অথবা শারীরিক সম্পর্কে সঙ্গীর আগ্রহই নেই।
• অবাস্তব প্রত্যাশাও অনেক সময় এক সম্পর্ক ভেঙে আর এক সম্পর্ক তৈরি করার কারণ হয়ে ওঠে। ধরা যাক মহিলা বা পুরুষটি তাঁর সঙ্গীর সাধ্যের অতীত কিছু প্রত্যাশা করছেন। তা পূর্ণ না হওয়ার ফলে আর সেই সঙ্গীকে পছন্দ হচ্ছে না।
কর্মক্ষেত্রে তৃতীয় সম্পর্কের সূত্রপাত
কর্মক্ষেত্রে যেহেতু দিনের অনেকটা সময় কাটান সকলেই, ফলে সেখান থেকে নতুন করে একটি মানুষকে চেনা, জানা বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে তার এসে পড়া অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে মনে করেন মনোবিদ অমিত চক্রবর্তী। বড় বিষয় হচ্ছে এক জায়গায় বসে কাজ করা। একই অফিসে রোজ দেখা হওয়া। ক্যান্টিনে খেতে যাওয়া বা কাজের জায়গাতে একটা বোঝাপড়া। একজন আর একজনকে সাহায্য করা। এগুলো প্রতিদিন হতে থাকলে, বারবার হতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভালোলাগা তৈরি হয় (অ্যাফিনিটি)। আমাদের অধিকাংশ সম্পর্ক যদি আমরা দেখি, তার শুরুটা হয় স্কুলে একসঙ্গে পড়ত বা টিউশনে যেত একসঙ্গে, কলেজে একসঙ্গে পড়েছে বা একই বাসে করে রোজ অফিস যায়— সেখান থেকে। এই যে একসঙ্গে এক জায়গাতে বারবার দেখা হওয়াটা, সেটা অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরির ভিত্তি। সেজন্য বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা অনেকদিন ধরে চিনি, জানি। এই অনেকদিন ধরে চেনা, আমরা একই অফিসে অনেক দিন ধরে কাজ করছি, তার জন্য দু’জনের মধ্যে একটা ভালোলাগা তৈরি হওয়া, এই দুটো বিষয় একটু আলাদা। কাজ করতে গিয়ে পাশে একজনের সঙ্গে রোজ দেখা হচ্ছে। দেখতে দেখতে কোনও সময় তাকে একটু অন্যরকম লাগছে। আমার স্ত্রী বা আমার স্বামীর থেকে তাকে একটু আলাদা মনে হচ্ছে। আমি দেখছি আমাকেও তার পছন্দ হচ্ছে। এটা একটু অদ্ভুত উত্তেজনা তৈরি করে। যেন ফিকে হয়ে যাওয়া প্যাশন পুনরায় জাগিয়ে তোলে।
বায়োলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজিস্ট হেলেন ফিসার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া পুরুষ এবং নারীদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। মনোবিদ অমিত চক্রবর্তী জানালেন, গবেষণার পর হেলেন জানিয়েছিলেন, সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি হয়, কারণ কর্মক্ষেত্র যোগাযোগেরও জায়গা। কর্মক্ষেত্র থেকে একজন নতুন বন্ধু আসতে পারে। হেলেন দেখিয়েছেন, সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের পর মহিলাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ মনে করে তারা বিবাহিত সম্পর্কে সুখী। স্বামীর প্রতি সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে ৫৬-৬০ শতাংশ মনে করে তারা বিবাহিত জীবনে সুখী। অর্থাৎ একজন পুরুষ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে থেকেও মনে করে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালোই আছে। স্ত্রীকে আলাদা ভাবতে পারছে না। একজন মহিলা কিন্তু পুরুষের তুলনায় সেটা কম ভাবছে। মেয়েটি যখন নতুন করে প্রেমে পড়ছে, স্বামী বা আগের প্রেমিকের প্রতি তার আকর্ষণ অনেক কমে যায়। আসল জায়গাটা জুড়ে থাকে তার জীবনে আসা নতুন পুরুষটি।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের পর মহিলা এবং পুরুষ উভয়ের আচরণই বদলে যায়। এই বদল স্বাভাবিক এবং লিঙ্গভেদে একেবারে আলাদা। তা কেমন? অমিত জানালেন, যখনই একজন মহিলার কর্মক্ষেত্রে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হচ্ছে, কাজের জায়গাতেই, সে তখন নতুন সম্পর্কের প্রতি শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে যায়। মেয়েটি কিন্তু আর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় না। ছেলেদের মধ্যে সেই সংখ্যা কম। পুরুষরা কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে থাকার সময়ও বেশি করে স্ত্রীকে চায়। ৬০ শতাংশ পুরুষ স্ত্রীর সঙ্গে ‘কানেক্টেড’ থাকতে চায়। ৪০ শতাংশ পুরুষ নতুন মেয়েটির সঙ্গে বেশি একাত্মবোধ করে। অর্থাৎ বেশিরভাগ পুরুষ বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয় না। বা কম ফিরিয়ে দেয়। তুলনায় মেয়েরা তাদের স্বামীকে দ্রুত সরিয়ে দেয়। নিজের অভিজ্ঞতায় অমিত দেখেছেন, একটি মেয়ে যখন অন্য পুরুষের প্রেমে পড়ে, তখন প্রথমেই তার স্বামী বা আগের প্রেমিককে শারীরিক, মানসিকভাবে সরিয়ে দেয়। অথচ স্বামীর প্রতি দায়িত্ব বজায় রাখে। খাওয়া হল কি না, অসুখ হলে ডাক্তার দেখাতে হবে, ওষুধ দিতে হবে, এসব মনে রাখে মেয়েটি। কিন্তু সাধারণত স্বামীর সঙ্গে শারীরিক এবং মানসিকভাবে আর মিলিত হতে চায় না। অথচ পুরুষ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে থেকেও দিব্যি স্ত্রীর সঙ্গে দারুণ অভিনয় করে যেতে পারে। তাকে বুঝতে নাও দিতে পারে, বাইরে তার একজনের সঙ্গে সম্পর্ক হচ্ছে। এই কারণে মেয়েরা ধরা পড়ে আগে। মেয়েদের আচরণ থেকে বোঝা যায়, তার একটা নতুন সম্পর্ক হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধরাটা কঠিন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় অমিত চক্রবর্তী দেখেছেন, যে মহিলাদের অনেক মেয়ে বন্ধু থাকে, তাঁদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কম হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মেয়েদের জীবনে সামাজিক সমর্থন থাকলে অন্য পুরুষের আগমনের সম্ভাবনা কমে। অর্থাৎ যেসব মহিলার অনেক বন্ধু রয়েছে, নিজের দক্ষতার প্রতি আস্থা রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে জীবনে একজন বিশেষ পুরুষ বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা অনেক কম তৈরি হয়। কিটি পার্টি, সিনেমা দেখা, লেডিস ক্লাব— এগুলোতে তাঁরা ব্যস্ত থাকলে সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি কম ঢোকে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। নিজস্ব এনগেজমেন্ট থাকলে তৃতীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা কমে।
পরিণতি
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? নতুন প্রেম যদি কর্মক্ষেত্রে তৈরি হয়, তার পরিণতি কী? অমিত মনে করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা পরিণতিহীন সম্পর্ক। পুরুষ অথবা মহিলা যখন একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াচ্ছেন, উল্টো দিকের মানুষটি বিবাহিত হতেও পারেন, আবার নাও হতে পারেন। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীর থেকে ডিভোর্স নিয়ে নতুন প্রেমকে বিয়েতে স্বীকৃতি দেওয়া, তার সঙ্গে সংসার করার জন্য অনেকগুলো ধাপ পেরতে হয়। সন্তান থাকলে দাম্পত্যবিচ্ছেদ নিয়ে আরও বেশি সমস্যা তৈরি হবে। ফলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের পরিণতি খুব কম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের পর তৃতীয় সম্পর্কের মানুষটিকে বিয়ে করতে মানুষ সমর্থ হন। পরিণতিহীন সম্পর্ক বলেই এই ধরনের সম্পর্ক একটা সময় যন্ত্রণা দেয়। সম্পর্কটা আর থাকে না। একটা সময় যে মেয়েটি অন্য একটি পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে আছে, ধরা যাক পুরুষটি অবিবাহিত। সে চায় মেয়েটি দাম্পত্য থেকে বেরিয়ে আসুক, তারপর তারা বিয়ে করবে। সে যখন দেখে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে, সে তখন অন্য একটা জায়গায় আকৃষ্ট হতে পারে। সরে যেতে পারে। তার বাস্তব বুদ্ধি বলতে পারে, ধুর.. এ কোনও লাভ নেই। সেটা কিন্তু মেয়েটির কাছে খুব কষ্টের। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বামীর থেকে ব্রেকআপের থেকেও, প্রেমিকের থেকে ব্রেকআপ অনেক বেশি কষ্টের হয়।
তাৎক্ষণিক আবেগ
এর পরও মানুষ প্রেমে পড়ে। পরিণতিহীন সম্পর্কের দিকে কখনও সজ্ঞানেই এগিয়ে যায়। তার কারণ কী? অমিতবাবু ব্যাখ্যা করলেন, ধরা যাক সকালে উঠে একজনের খুব পেট ব্যথা করছে, সন্ধেবেলা যখন সামনে একটা এগ চিকেন রোল তিনি পেলেন, সকালের পেট ব্যথার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে খেয়ে ফেললেন। তাৎক্ষণিক আবেগ মানুষকে অনেক বেশি জারিত করে, তাড়িত করে। আবার এর একটা অন্য ব্যাখ্যাও রয়েছে। মনোবিদ সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন, ধরা যাক বাড়িতে দীর্ঘদিনের জলের সমস্যা। এটা প্রতিদিন সামলাতে হচ্ছে। যতটা জল পাওয়ার কথা ততটা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি পাড়ার রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। খানাখন্দ পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এবার যখন কাউন্সিলর এসে নাগরিকদের জিজ্ঞাসা করবেন, আপনাদের সমস্যা কী? তাঁরা বলবেন, আপনি রাস্তাটা আগে ঠিক করুন। এটা আমার প্রাথমিক সমস্যা। সেজন্য নির্বাচনের আগে এসব কসমেটিক কাজগুলো হয়। কারণ ভোট দিতে গিয়ে মানুষের এসব বড় জিনিসগুলো মাথায় থাকে না। এটা প্রমাণ করেই সাইকোলজিস্ট ড্যানিয়েল কানেম্যান নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল। মানুষের তাৎক্ষণিক আবেগ অনেক প্রভাবশালী। চাকরি না থাকাটা অনেক বড় সমস্যা। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশা তাৎক্ষণিক সমস্যা। সেটা মিটিয়ে দিলেই নির্বাচনে ফল পাওয়া যাবে। তেমনই কর্মক্ষেত্রে গিয়ে যখন এমন কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়, যিনি বুনিয়াদি সম্পর্কের অন্দরে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে প্রবেশ করছেন, সেই তাৎক্ষণিক আবেগটা এত বেশি জোরদার হয় যে, আগের সম্পর্কটা ভেঙে যায়। রোজ দেখা হওয়ার সাংঘাতিক প্রভাব রয়েছে। এই প্রেম টিকবে কি না, সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু পুরনো প্রেমের প্যাশন কমতে শুরু করেছে যখন, তখন এই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগের প্রেম ভেঙে যায়।
নতুন সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি
কর্মক্ষেত্রে যখন নতুন প্রেম তৈরি হয়, তার মধ্যেই তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটতেই পারে। বিষয়টি জটিল হলেও সত্যি। অমিতবাবু ব্যাখ্যা করলেন, প্রথম হল স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে অথবা দু’জন দাম্পত্যে না থাকলেও প্রেমে রয়েছেন, এমন একটি সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকছেন। অফিসে নতুন করে যে প্রেম তৈরি হল, তার মধ্যেও তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকতে পারেন। ধরা যাক টিম লিডারের সঙ্গে তারই অধস্তন সহকর্মীর প্রেম হল। সেই টিম লিডারকে আরও একজন অধস্তন সহকর্মীও পছন্দ করছেন। তখন এই দুই অধস্তন সহকর্মীর মধ্যে সমস্যা তৈরি হল। স্বামী বা আগের প্রেমিক সেখানে আর কোনও ফ্যাক্টরই নন। এই ত্রিকোণ প্রেমের মধ্যে তখন তারা তিনজন। এই প্রেম ভেঙে গেলে কিন্তু আঘাত আসে সাংঘাতিক।
কর্তৃপক্ষ প্রেমের পক্ষে
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় অমিত দেখেছেন, কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ চান, ছেলেমেয়েরা প্রেম করুক। তাতে তারা বেশি সময় কাজের জায়গায় থাকবে। বেশি কাজ হবে। প্রেম করলে দুই সহকর্মী বেশিক্ষণ একে অপরের কাছাকাছি থাকতে চাইবে। হয়তো বেশি কাজও করবে। আসলে প্রেম করলে মানুষের মন ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে মানুষের আত্মসম্মান বাড়ে। আত্মসম্মান বাড়লে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। ভালো কাজ হয়।
প্রতিশোধ
প্রেম ভেঙে গেলে কিছু মানুষের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা প্রবল হয়ে ওঠে। কর্মক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। ব্রেকআপ হলে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয় যে, মানুষটি ঠকাল। সেখান থেকেই কর্মক্ষেত্রে প্রতিশোধস্পৃহা তীব্র হয়ে ওঠে। বাড়িতে স্বামী বা স্ত্রী অন্যায় আচরণ করলে, প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হলেও প্রাথমিকভাবে লোকে ভাবে, স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে গেলে কী কী সামাজিক বাধা আসতে পারে। বাবা, মায়েরা মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেবেন। কিন্তু অফিসে সেই চাপ নেই। সেখানে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। মিথ্যে বলে ফাঁসাতে পারে। নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে বাকিদের সামনে তুলে ধরতে পারে। যার সঙ্গে প্রেম হল, কিছুদিন পরে তার সঙ্গে যদি বনিবনা না হয়, সে যদি ক্ষুব্ধ হয়, তাহলে সে আইনের পথ নিতে পারে। কারণ এই দুই ব্যক্তি ‘অবৈধ’ সম্পর্কের মধ্যে ছিল। ফলে বিবাহিত সম্পর্কে যখন তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকছে, যৌনতা হচ্ছে, তার পরিণতি ভালো হয় না। কিন্তু সম্পর্কটা তৈরি হওয়ার অনেক কারণ থাকে। মেয়েটি বা ছেলেটি একটা সম্পর্কে অবহেলিত বলেই তো অন্য সম্পর্কের দিকে ঝুঁকেছে।
অপরাধবোধ
এই সম্পর্ক ভাঙলে অপরাধবোধ তীব্র হতে পারে। যখন ছেলেটি বা মেয়েটি তৃতীয় কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তারপর বাড়িতে ফিরে তার মনে হচ্ছে, আমি বোধহয় ঠকাচ্ছি। তার প্রবল অসুবিধে হওয়ার কথা, যদি সে সাধারণ লোক হয়। ‘নার্সিসিস্ট’ বা ‘সাইকোপ্যাথ’-এর কথা আলাদা। এটা একটা সঙ্কটের জায়গা। তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তখন অপরাধবোধ অনেক বেড়ে যায়। এর থেকে বেরনোর উপায় কী? অমিতবাবু জানালেন, নতুন করে কাউকে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, আমার কিছু কমিটমেন্ট আছে। কমিটমেন্ট মানে সঙ্গীর খাওয়া বা পরার ব্যবস্থা করছি, তা নয়। কমিটমেন্ট মানে অন্য কোনও পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে যুক্ত না হওয়াটাও কমিটমেন্ট। সঙ্গীর সমস্যায় পাশে থাকব, অসুখ হলে ডাক্তার দেখাব, শুধু এটা কমিটমেন্ট নয়। আর একজনের কাছে না যাওয়াও যে কমিটমেন্ট, এই বোধটা অনেকের থাকে না। তিনি আরও জানান, মানুষ আসলে পলিগ্যামাস। মনোগ্যামি মানুষকে গ্রহণ করতে হয়েছিল বাঁচার জন্য। মনোগ্যামিতে না গেলে পরিবার, সংসার তৈরি হতো না। এগুলো মানব জাতিকে শক্তিশালী করেছে। তার জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। মানুষের ভেতরে যে পলিগ্যামাস প্রবৃত্তি, ইচ্ছে— সেটাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। কারণ এর ফলাফল খারাপ হবে। যাঁরা বুদ্ধিমান, তাঁরা মনে করেন, যখন আমি স্বামী বা স্ত্রীকে হারাব, তখন আমি পরিচিতিটাও হারাব। ছেলে, মেয়ে, সংসার, পরিবার সব কিছু হারাব। যদি এমন ঘটনা, তাহলে সেটাতে না যাওয়াই ভালো। অমিতবাবুর পরামর্শ, অপরাধবোধ এলে পেশাদারের সাহায্য নিন।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কমিটমেন্টের জায়গাটা, দায়িত্বের কথাটা মনে রাখা দরকার। স্বামী, স্ত্রী
একে অপরকে প্রতিদিন অনেকটা সময় দিলে কিন্তু এই ব্যাপারগুলো অনেক কম হয়। সম্পর্কে ফাঁক না থাকলে তৃতীয় কেউ ঢোকে না।
কেরিয়ারে গুরুত্ব
জীবনে যে কোনও পরিস্থিতিতেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা ভুলে গেলে তা একরকম বোকামোই হবে। মনোবিদ মনে করিয়ে দিলেন, কাজের জায়গাটা সীমিত, জীবনের সীমিত সময় সেখানে কাটে। এমনকী কর্মক্ষেত্রও বদলে যায়। চাকরি হয়তো আজ আছে, কাল নেই। কর্মক্ষেত্র কখনওই বাড়ি নয়, সংসার নয়। আজকের দিনে যে কাজের দুনিয়া সেখানে এক জায়গায় কেউ আটকে থাকে না। তাহলে লোকে মনে করে কাজের বাজারে তার দর কমে গেল। আরে! ছ’বছর এক জায়গায় আছিস! আর একটা কাজ পেলি না? এই ভাবনা থেকেই মনে রাখা উচিত, প্রাথমিক ফোকাসে থাকবে কেরিয়ার। কেরিয়ার গড়তে গেলে সম্পর্কের মধ্যে না যাওয়াটা ভালো। কারণ ভবিষ্যৎ ভেবে এগনো জরুরি। ধরা যাক, কেউ বাড়তি সুবিধে পাওয়ার জন্য টিম লিডারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেন। পরে সেই সম্পর্ক থেকে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। তার ফলশ্রুতিতে এক্ষেত্রে অধস্তনের চাকরি যেতেও পারে। তাঁকে আবার একটা কাজ জোগাড় করতে হবে। এমন ঘটনা বহু ঘটে। ফলে সম্পর্কটা কেরিয়ারের জন্য কতটা সমস্যার হতে পারে, সেটা ভাবতে হবে। যাঁরা বিচক্ষণ, তাঁরা প্রেমে পড়েন না। তাঁরা জানেন, লক্ষ্মণরেখা কতটা। তারপর তাঁরা আর এগন না। সেই লক্ষ্মণরেখা যাঁরা বুঝতে পারেন না, তাঁদের এই ঝামেলার মধ্যে না যাওয়াই ভালো। কতদূর পর্যন্ত গল্প করব, তারপর আর এগনো উচিত নয়, যাঁদের এই বোধটা নেই, তাঁদের এসবের মধ্যে না যাওয়াই ভালো।
বুড়ো বয়সের চাওয়া পাওয়া
অমিত চক্রবর্তী স্পষ্ট জানালেন, আজকের দুনিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অথবা প্রেমের সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন অবশ্যম্ভাবী। কর্মক্ষেত্রেই সেটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও স্বাভাবিক। কিন্তু এই সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়। তাতে মন, পরিবার এবং পেশার উপর চাপ তৈরি হয়। সেটা মাথায় রেখে যদি কেউ জড়িয়ে পড়েন, তাঁর বেরিয়ে আসার চেষ্টাই করা উচিত। বেরিয়ে আসার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। সবথেকে সহজ পদ্ধতি, স্বামী বা স্ত্রীকে সময় দেওয়া, তাঁর সঙ্গে কথোপকথন নতুন করে শুরু করতে হবে। একটু তলিয়ে ভাববেন, আজ যাঁকে ভালো লাগছে, তাঁর সঙ্গে সারাজীবন থাকতে পারবেন তো? নাকি আপনার চিরচেনা পুরনো স্বামী বা স্ত্রীই ভালো, বুড়ো হয়ে গেলেও যিনি আপনার সঙ্গে থাকবেন।
প্রেমে বিনিয়োগ
মনোবিদের মতে, প্রেম আসলে বিনিয়োগ। যে বিনিয়োগ মানুষ ২৫ বছর বয়সে করে। যাতে সেটা নিয়ে ৮৫তে গিয়ে ভালো থাকা যায়। তারপরও কি পা পিছলোয় না? হতেই পারে। তেমন হলে স্বামী বা স্ত্রীকে জানাতে হবে। যদি সম্পর্ক ঠিক থাকে, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঙ্গী কিন্তু ক্ষমা করে দেয়। সঙ্গীর ভুল জেনেও তাঁকে গ্রহণ করে নেন। সম্পর্কের ভিতর এই বিশ্বাস থাকলে সহজ হয় বিষয়টা।
শেষ পাতে
সবশেষে হেসে মনোবিদ বললেন, ‘জানেন তো, সুযোগের অভাবেও অনেকে সৎ আছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁর এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার করার সুযোগই হল না।’