


স্বরলিপি ভট্টাচার্য: ‘চিরসখা’র বিষয় মধ্যবয়সের প্রেম। এই পরিস্থিতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
মধ্যবয়সে প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা— অনেক কিছুই হতে পারে। আবেগের সঙ্গে বয়সের কোনও সম্পর্ক নেই তো। ‘চিরসখা’ এই সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করে। যাদের কথা এতদিন বলা হয়নি, তাদের কথা বলে। ‘কমলিনী’, ‘স্বতন্ত্র’র (ধারাবাহিকের চরিত্র) জীবন নিয়ে ক’জন ভাবেন? অনেকের মনে হয়, জীবন অনেকটা গড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু মধ্যবয়সে জীবন অনেকটা বাকিও রয়েছে, সেটাও মনে রাখতে হবে।
• বাস্তবে অনেকেই ৫০ পেরিয়ে বিয়ে করছেন, আবার মধ্যবয়সের প্রেম নিয়ে ধারাবাহিক হচ্ছে। সমাজের দেখার চোখ কি বদলাচ্ছে?
দুটোর ক্ষেত্র আলাদা। যাদের বিয়ে নিয়ে খবর হচ্ছে, সবসময় যে পজিটিভ রিঅ্যাকশন হচ্ছে, তা নয়। আমার জীবনের উদ্দেশ্য খবর হওয়া নয়। বরং সুন্দরভাবে বাঁচা। বাস্তবে ওইখানে ভাবনাটা বদলেছে। সেটা সুন্দর। আগে এটা এভাবে হয়তো করা যেত না। আর ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে ‘চিরসখা’র মতো কাজ এখনও খুব বেশি হয় না। চরিত্রগুলোর সংকট যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যিই সুন্দর।
• ‘কমলিনী’র ফিডব্যাক কেমন?
ভালোই। তবে যেকোনও ক্ষেত্রেই কোনও বিষয় সকলের ভালো লাগতে পারে না। এক্ষেত্রে ভালোটাই বেশি।
• সমালোচনাকে গুরুত্ব দেন?
আমার একটাই উদ্দেশ্য। কাজের প্রতি যেন আমার ১০০ শতাংশ দিতে পারি। বাকিটা মন দিয়ে শুনি।
• ২০ বছরের কেরিয়ারে নিজেকে কতটা বদলেছেন?
মানুষ হিসেবে অনেক বদলে গিয়েছি। সবথেকে বেশি আমি আমার সঙ্গেই থাকি (হাসি)। ফলে বদলগুলো কী কী, আমার পক্ষে বলা মুশকিল।
• কেরিয়ারে টেলিভিশনকে প্রায়োরিটি দেওয়ার কারণ কি সিনেমায় অফার কম পাওয়া?
আমার তেমনটা মনে হয় না। প্রথমত আমি দুটোর মধ্যে ভাগাভাগি করি না। ভালো কাজকে প্রায়োরিটি দিই। আমি কখনও টেলিভিশন ছেড়ে গিয়ে অন্য কিছুর পিছনে দৌড়ইনি। তার আলাদা কোনও কারণও খুঁজে পাইনি। সিনেমা যাঁরা করেন, তাঁরাও সিনেমা ছেড়ে অন্য কিছুর পিছনে দৌড়ন না। তাছাড়া অনেক সিনেমায় কাজ করেছি। ফলে আপশোস নেই। থিয়েটার তো প্রায় করিইনি। সেটা নিয়ে তো আলোচনা হয় না! অন্য একটা মাধ্যমে কাজ করতে পারছি না বলে আমার কিছু মনে হয় না। আমি টেলিভিশনকে কখনও ছোট করে দেখি না।
• থিয়েটার করছেন না কেন?
থিয়েটারকে যতটা সময় দিতে হয়, এই মুহূর্তে সেটা সম্ভব নয়।
• আপনার অভিনীত কোনও চরিত্র ব্যক্তিজীবনে আপনার সঙ্গে থেকে গিয়েছে?
অনেক চরিত্র থেকে গিয়েছে। সেটা একটা উত্তরণও বটে। ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’-র ‘অন্নদাদিদি’, ‘এখানে আকাশ নীল’-এর ‘হিয়া’। ‘কমলিনী’ও আমার সঙ্গে থেকে যাবে। কিন্তু সবথেকে বেশি আমার সঙ্গে থাকে অপরাজিতা (হাসি)।