


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই নানা অভিনব-এর সমাবেশ। বস্তুত দর্শক টানতে থিমপুজোর সঙ্গে নানা আয়োজন উদ্যোক্তারা করে থাকেন। উৎসব মরশুমের হুগলিতে এবারও তেমন আয়োজনের সমাবেশ দেখা যাবে। কোথাও বিশেষ আবহসঙ্গীত তো কোথাও আলোর খেলা। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিকে উদ্যোক্তারা হাতিয়ার করতে চাইছেন তা হল, অঘোরীদের নৃত্য। ভিন্ন বেশ, তাণ্ডব নৃত্য, মুখ বা শরীর থেকে আগুন বের করা, দ্রুত লয়ের সঙ্গীত, এসবের এক জমাটি কোলাজ ওই অঘোরী নৃত্য। হুগলির চুঁচুড়া থেকে শ্রীরামপুর, একাধিক পুজো উদ্যোক্তার তুরুপের তাস ওই অঘোরী নৃত্য।
হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ার দু’টি পুজো কমিটি এবার অঘোরী নৃত্যের আসর বসাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ওই নৃত্য প্রদর্শনীতে মন্ডপ দর্শকের ভিড়ে ছয়লাপ হয়ে যাবে, এমনটাই আশা উদ্যোক্তাদের। শ্রীরামপুরের একটি পুজো কমিটি ওই অঘোরী নৃত্যকে পুজো মণ্ডপের আকর্ষণ হিসেবে ব্যবহার করবে। ইতিমধ্যেই তা নিয়ে ভিডিয়ো তৈরি করে সমাজমাধ্যমে দেদার প্রচারও শুরু হয়েছে। নবীন থেকে প্রবীণ, নানা মহলে তা নিয়ে আগ্রহও তৈরি হয়েছে। শ্রীরামপুরের দিলীপ স্মৃতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা দীপক পাত্র বলেন, আমাদের পুজোয় এবার হিমালয়, গুহাকন্দরের প্রেক্ষাপট থাকছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আমরা অঘোরী নৃত্যের আয়োজন করেছি। যা দর্শক মাতাবেই। বিশেষ করে দ্রুতলয়ে নৃত্য, অচেনা নৃত্যআদল, শরীর থেকে আগুন বের করার মতো বিষয়গুলি যেমন থিমের সঙ্গে মানানসই তেমনই চমক জাগাবে। চুঁচুড়ার পেয়ারাবাগান উদয়সঙ্ঘের থিমের সঙ্গে অঘোরী নৃত্য থাকছে। পুজো উদ্যোক্তা সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের থিমের পুজোর সঙ্গে বিশেষ চমক হিসেবে অঘোরী নৃত্য থাকছে। প্রশস্ত মঞ্চে বিশেষভাবে ওই নৃত্য প্রদর্শন হবে। রাতের চুঁচুড়াকে রোমহর্ষক করে তুলতেঙ আমরা সর্বোত প্রয়াস করছি। অঘোরী নৃত্যের আসর বসাতে ময়দানে নেমেছে চুঁচুড়ার বেগুনতলা জাগরণী সঙ্ঘও। পুজো উদ্যোক্তা কৌশিক দে বলেন, আমাদের থিমই মহারাষ্ট্রের রহস্যময় কৈলাশ মন্দির। শিবভগবানের সঙ্গে অঘোরী নৃত্য বিশেষভাবে মানানসই। পাশাপাশি, ওই বিষয়টি দর্শকদের কাছে অচেনা। সেই কারণেই ওই বিশেষ আয়োজন এবার করা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তিনটি পুজো উদ্যোগের থিমের মধ্যেই একটি মিল রয়েছে। নাম ভিন্ন ভিন্ন হলেও পাহাড়, গিরিগুহা, শিব, রহস্য ও রোমাঞ্চের পরিবেশ তিনটিতেই থাকছে। আর সেই কারণেই ইতিমধ্যেই অঘোরী নৃত্য বিষয়টি সাড়া ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত চুঁচুড়ার কিশোরী মেঘনা দাস। সে বলে, পুজোতে সবই ভালো লাগে। অঘোরী নৃত্য বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল হচ্ছে।