


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কর্মজগতে তেমন সাফল্য আসছে না ছাত্রছাত্রীদের। কলেজগুলিতে বহু বিষয়ের আসন ফাঁকা পড়ে থাকছে। সেই কারণে এবার নতুন পথে হাঁটতে চলেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। এআই, সাইবার নিরাপত্তার মতো কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। সামনের শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। ভিসি শংকরকুমার নাথ বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা এই সমস্ত বিষয়গুলিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে চাকরির সুযোগ বাড়বে। সাম্প্রতিক সময়ের দাবি মেনেই বেশ কয়েকটি নতুন কোর্স চালু করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এক সময় প্রথাগত বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তির জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হত। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিভিন্ন জেলার ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহ দেখাতেন।. এখন তাতে ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়েছে। নতুন বিষয় চালু করে আবার কর্তৃপক্ষ পুরানো গরিমা ফিরে পেতে চাইছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুন-জুলাই মাসেই এই বিষয়গুলিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। কয়েকদিন আগে ইসির বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি দেখার জন্য এক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রী ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়বে। এক আধিকারিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি টেকনিক্যাল কলেজ রয়েছে। তবে, সেখানে যে বিষয়গুলি পড়ানো হয়, সেগুলি এখানে পড়ানো হবে না। সম্পূর্ণ নতুন বিষয় নিয়ে ক্লাস চালু করা হবে। এআই’এর চাহিদা বেড়েছে। এই প্রযুক্তিকে আরও কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়ের উপর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একইভাবে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশোনা করলেও চাকরির কদর বাড়বে। সাত থেকে আটটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় চালু করা হতে পারে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এধরনের কোর্স চালু রয়েছে। অনেক বেশি টাকা খরচ করে ছাত্রছাত্রীদের সেখানে পড়াশোনা করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ অনেকটাই কম পড়বে। তবে, কারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুদিনের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
ভিসি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই আমরা তাড়াতাড়ি কোর্স চালু করব। আমরা রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছি। প্রযুক্তির উপর ভরসা করে আমাদের এগোতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী দিনে কলেজগুলিতেও এধরনের পেশাদারি কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথাগত কোর্সের এক সময় অনেক বেশি গুরুত্ব ছিল। সহজেই চাকরি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই দিন নেই। প্রযুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে যুবক-যুবতীরা খুব সহজেই কর্মসংস্থান করছেন। উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ।