


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: উন্নয়নই তাঁর মূল মন্ত্র। সেইসঙ্গে সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকেন। এই দু’টি বিষয় সামনে রেখেই জনতার দরবারে পৌঁছে যাচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাইতি। বিধায়ক তহবিলের ১০০শতাংশ টাকাই খরচ করেছেন তিনি। পিংলা-জয়ে এবারও পোড়খাওয়া অজিতের উপরই আস্থা রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রচারে বেরিয়ে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন তৃণমূল প্রার্থী। অজিতবাবু বলেন, গত পাঁচবছরে বিধায়ক তহবিলের ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকাই খরচ করা হয়েছে। এছাড়া, একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, এলাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনও করেছি।
তিনি জানান, ১৭লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাদপুরের হাট সংস্কার করা হয়েছে। ওয়াটার এটিএম বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ছ’টি স্কুলে নতুন ভবন তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ১৬টি অঞ্চলের প্রায় ৩০০-৪০০টি ক্লাবকে ৩২লক্ষ টাকার ক্রীড়া সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। পিংলাজুড়ে প্রায় ৫০টি হাইমাস্ট আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় খড়্গপুর গ্রামীণের বিদ্যাসাগর শিল্পতালুক থেকে পিংলা পর্যন্ত পেটোয়া খাল, মাওয়াতে কপালেশ্বরী খাল কাটা তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ বলে বিদায়ী বিধায়ক জানালেন। এর ফলে পিংলায় এখন আর বন্যা হয় না। পথশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৭০০’র বেশি রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে। মাদপুরের মনসা মন্দিরকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। সেখানে পার্ক নির্মাণ সহ নানা কাজ হয়েছে। পিংলার আইটিআই ও মাদপুরের গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের কথাও অজিতবাবু জনতার সামনে তুলে ধরছেন।
মাদপুরের বাসিন্দা জপমালা দে, অরুণ সিংহ বলেন, মাদপুরের হাটটি বাঁধিয়ে দেওয়ার ফলে আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। এলাকার কাজ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
পিংলা বিধানসভায় অজিতবাবুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির স্বাগতা মান্না। বহিরাগত তকমার পাশাপাশি বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল পদ্ম প্রার্থীর চিন্তা বাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে এলাকায় এসআইআর নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে। বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন বর্ষীয়ান সিপিআই নেতা অশোক সেন। তাঁর বাড়ি পিংলাতেই। বিজেপি ও সিপিআই প্রার্থী জানান, পিংলার বহু রাস্তাঘাট বেহাল। বর্ষাকালে হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না। এলাকার যুবদের কর্মসংস্থান হয়নি। জবাবে অজিতবাবু বলেন, বিরোধীদের কাজ সমালোচনা করা। গত পাঁচবছরে আমরা পিংলার সার্বিক উন্নয়ন করেছি।