


জঙ্গলঘেরা গ্রাম আউশগ্রাম-২ ব্লকের লবণধার। পাতা ঝরার মরশুমে প্রায়ই আগুন লাগে জঙ্গলে। অনেক সময়ে অভিযোগ ওঠে, মানুষই এই আগুন লাগিয়েছে। কিন্তু জঙ্গলে আগুন লাগানো উচিত নয়। সচেতনতার এই পাঠ দিতেই গ্রামের কয়েকজন মিলে তৈরি করে একটি সংগঠন। তাঁদের উদ্যোগেই শুরু হয় গ্রামের বাড়ির দেওয়ালে ছবি এঁকে সচেতনতা প্রচার। এখন সেই গ্রামই ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে একটা আস্ত ক্যানভাস। বিভিন্ন ছবি আঁকা হয়েছে সেই ক্যানভাসে। জঙ্গল রক্ষার বার্তা, গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন যাপন থেকে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি—সবই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবির মাধ্যমে। লবণধার গ্রাম সেজে উঠেছে বিভিন্ন ছবিতে। গ্রাম দেখতে বর্ধমান, বীরভূম ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, কলকাতা থেকে নিয়মিত পর্যটকরা আসছেন। কিন্তু উপযুক্ত যাতায়াতের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের। মানকর বা পানাগড় স্টেশন থেকে লবণধার গ্রামে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ৩০০ বছর আগে বড়ডোবায় জেবনা বা জীবন নামে এক ডাকাত থাকত। বুদবুদে চুরি করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে। ডাকাতের উৎপাত থেকে বাঁচতে বড়ডোবার রায় বাড়ির সদস্যরা একটি পাখি ওড়ান। তাঁরা ঠিক করেন, পাখি যেখানে বসবে সেখানেই নতুন করে বসতি স্থাপন করা হবে। লবণধার গ্রামের ধর্মরাজতলায় একটি বড় বটগাছের ডালে পাখিটি বসে। সেখানেই নতুন বসতি স্থাপন হয়। গ্রামের নাম দেওয়া হয় নতুনগ্রাম। কিন্তু পরে দেখা যায় আশপাশে আরও নতুনগ্রাম রয়েছে। বিভ্রান্তি এড়াতে তাই নাম বদল। এবারে রাখা হয় নবধার বা নবনধার। কালক্রমে সেটিই লবণধার হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বর্তমানে এই গ্রাম আলপনা গ্রাম নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এই নাম কে বা কারা দিয়েছে, সেই তথ্য সঠিকভাবে বলতে পারেন না কেউই।