


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ধারণ ক্ষমতার চেয়ে গাড়ির সংখ্যা বেশি। আড়াই নম্বর গেটে প্রতি ঘণ্টায় ২৭০০ গাড়ির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিমানবন্দরের বাড়তি গাড়ি। সব মিলিয়ে ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার! এই কারণে এয়ারপোর্টে মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্য আড়াই নম্বর গেট দিয়ে গাড়ি ডাইভারশনের অনুমতি দেয়নি বিধাননগর পুলিশ। অবশেষে গাড়ির চাপের সমাধান করল পুলিশই। বিমানবন্দর থেকে প্রস্থানের পথে এবার বিকল্প রাস্তা চালু হতে চলেছে। কলকাতামুখী গাড়িগুলি এআই গেট এলাকা দিয়ে বাঁদিকে ঢোকানো হবে। তার জন্য গেটের অংশ এবং তার দু’পাশের পাঁচিল ভাঙা হয়েছে। ভিতরের রাস্তা দিয়ে গাড়িগুলিকে তোলা হবে ভিআইপি রোডে। পুলিশের দাবি, প্রকল্পের কাজের জায়গায় রাস্তা বন্ধ করলেও সমস্যা নেই। বিকল্প রাস্তায় যান চলাচলেও কোনো সমস্যা হবে না।
কলকাতা থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য ফ্লাইওভারের নীচে অরেঞ্জ লাইনের শেষ অংশে মেট্রোর বক্স-পুশিং টানেলিংয়ের কাজ চলছে। রাস্তার নীচে যেহেতু এই কাজ চলছে, তাই উপর দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কারণে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কলকাতামুখী যে রাস্তা ভিআইপি রোডে মিশেছে, সেই ত্রিকোণ অংশ বন্ধ রাখতে হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আরভিএনএল সমীক্ষা করে ট্রাফিক ডাইভারশনের রিপোর্ট পুলিশকে দেয়। তাতে বিমানবন্দর থেকে কলকাতামুখী গাড়িগুলি ভিআইপি রোডের আগে ইউটার্ন করে ফের বিমানবন্দরে ঢোকানোর কথা বলা হয়। মন্দির ক্রসিং পার করে আড়াই নম্বর গেট দিয়ে গাড়িগুলি ঘুরিয়ে ১ নম্বর গেট হয়ে ভিআইপি রোডে তোলার কথা বলা হয়েছিল। তাতে আপত্তি জানিয়েছিল পুলিশ। কারণ, এতে গাড়ির চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি গাড়িকে ১.৩ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হত।
বারাসত ও বেলঘরিয়া এক্সপ্রেস রুটের গাড়িগুলি আড়াই নম্বর কাটআউট দিয়ে এয়ারপোর্টের ভিতরে না ঢুকে ১ নম্বর থেকে ভিআইপিতে ওঠার কথা জানানো হয়েছিল। যানজটের কথা ভেবে এতেও আপত্তি তোলে পুলিশ। এরপরই ডাইভারশনে না করে বিকল্প রাস্তার খোঁজ শুরু করে তারা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আরভিএনএলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানসূত্র বেরয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিকল্প রাস্তাটি অস্থায়ীভাবে করা হবে। এখন বিমানবন্দর থেকে কলকাতামুখী গাড়িগুলি যে রাস্তা দিয়ে গিয়ে ভিআইপি রোডে ওঠে, ঠিক তার আগেই রয়েছে এআই গেট। সেই গেটের দু’পাশের পাঁচিল ভেঙে প্রায় ৬ মিটার চওড়া করা হয়েছে। গাড়িগুলিকে সেখান দিয়ে ঢোকানো হবে। আগে এই গেটে সিঁড়ি ছিল। তাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই রাস্তায় ঢোকার পর প্রায় ২০ ফুট চওড়া রাস্তায় কিছুটা যেতে হবে। ৩০ মিটার এগিয়ে ডান দিকে ঘুরতে হবে। সেখান থেকে আরও প্রায় ৪০ মিটার সোজা এগলে বিএসএফ গেট। সেখান থেকে গাড়িগুলি বাঁ দিকে ঘুরিয়ে ভিআইপি রোডে তোলা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, একটা অস্থায়ী রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তা সংস্কার এবং চওড়া করা হবে। সেই সঙ্গে গেট ভাঙা, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড বসানো, পুলিশকর্মী মোতায়েনের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দেড় মাসের মধ্যেই এই বিকল্প রাস্তা চালু হয়ে যাবে। পাঁচিল ভেঙে তৈরি হচ্ছে রাস্তা। -নিজস্ব চিত্র