


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ড সিবিএসই সরকারিভাবে কোনো মেধা তালিকা প্রকাশ করে না। তবে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৫০০-তে ৫০০ পেয়ে দেশের মধ্যে অন্যতম প্রথম স্থানাধিকারী দমদমের কালিন্দী হাউজিংয়ের বাসিন্দা অনিশা ঘোষ। তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভারতীয় বিদ্যাভবন স্কুলের এই ছাত্রী। ঈর্ষণীয় ফল করেছে তার যমজ বোন অনিষ্কা ঘোষও। ৯৯.২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে।
দুই মেয়ের সাফল্যে যথেষ্ট খুশি বাড়ির সকলে। তারা জানিয়েছে, মে’তে আয়োজিত হতে চলা দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় সম্ভবত তারা বসছে না। একাদশের প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে তারা। প্রসঙ্গত, এই পরীক্ষায় ভালো ফল বা আশাব্যাঞ্জক ফল না করতে পারা ছাত্রছাত্রীদের কাছে পরবর্তী পরীক্ষায় বসে নম্বর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই পরীক্ষাটির জন্য প্রথম পরীক্ষার ফল নির্দিষ্ট সময়ের বেশ অনেকটা আগেই প্রকাশ করেছে সিবিএসই।
সার্বিকভাবে এবছর ৯০ শতাংশ বা ৯৫ শতাংশ পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি। শহরের স্কুলগুলিতেও মিলেছে তার প্রতিফলন। লক্ষ্মীপৎ সিংহানিয়া স্কুলে ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জনই ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। ডিপিএস রুবি পার্কে এই সংখ্যাটা ৪৬৭ জনের মধ্যে ২২২। সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলে ৭৩২ জনের মধ্যে ১৮৮ জন ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। বিডিএম ইন্টারন্যাশনালে ৫৯৯ জনের মধ্যে ১১৫ জন এবং মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড আকাদেমিতে ২২৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, একটি বিষয় খানিকটা উদ্বেগে রেখেছে প্রধান শিক্ষক তথা প্রিন্সিপালদের। কারণ ৯০ শতাংশই বা ৯৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা গতবারের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। বরং বেড়েছে হিউম্যানিটিজ এবং কমার্সে ৯০ শতাংশ এবং ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে যেমন ম্যাথামেটিক্সে একশোয় একশো পেত গড়ে ৪০-৫০ জন ছাত্রছাত্রী। এবছর সেটা নেমেছে ১০-এর নীচে। ফলে স্কুলপ্রধানরা মনে করছেন, পরবর্তী পরীক্ষায় বসে নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করবে অনেকেই। বিজ্ঞানে নম্বর কমার আর একটি সম্ভাব্য কারণও বলছেন তাঁরা। বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশিক্ষণে ব্যস্ত থাকে। তাই বোর্ড পরীক্ষার উপরে গুরুত্ব একটু কমে যায়। অনেক ছাত্রছাত্রী আবার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভরতির জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ নেয়। সেগুলির সিলেবাস একেবারেই আলাদা। সেটারও প্রভাব পড়ে বোর্ড পরীক্ষায়।