


নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানীতে ফের ভেঙে পড়ল বাড়ি। এবারের ঘটনাস্থল উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী। বুধবার দুপুরে সেখানকার একটি পাঁচতলা বাড়ির সামনের অংশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স দেড় বছর আর অন্যজনের ১২। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন বছর একুশের এক সন্তানসম্ভবা তরুণীও। গুলাফসা নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী বেশকিছুক্ষণ ইট-কংক্রিটের নীচে আটকে ছিলেন। সেখান থেকেই কোনোভাবে ফোন করে পরিজনদের কাছ জলও চেয়েছিলেন তিনি। ঠিক কোথায় আটকে রয়েছেন, সেটাও জানান। কিন্তু, উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মারা যান গুলাফসা। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। কারণ, সেখান থেকে আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। তাই জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডে ভূমিকম্পের ফলে বাড়িটিতে ফাটল ধরে। তার জেরেই এই বিপত্তি। প্রসঙ্গত, গত মাসে দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ৩টে ১৫ নাগাদ বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর মেলে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। সঙ্গে যায় পুলিশও। কংক্রিটের চাঙড় সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যানবাহনের যাতায়াতের সুবিধের জন্য এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ডিসিপি আরপি মীনা বলেন, ‘বর্তমানে আটজন গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমাদের সন্দেহ, এখনও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে থাকতে পারেন।’