


কোহিমা, ২৬ সেপ্টম্বর: ড্রাই স্টেট নাগাল্যান্ড। আর এই নাগাল্যান্ডেই ফের অবৈধ বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠে আসার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যের একাধিক এলাকায়। গত দু’দিনে রাজ্যের মোককচুং ও তুয়েনসাং জেলায় সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে মোককচুংয়ে ৮ জন এবং তুয়েনসাংয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে ওই দলটি সন্দেহভাজন ভেজাল মদের উৎস ও সরবহরাহের গোটা চক্রের তল্লাশি শুরু হয়েছে। নাগাল্যান্ডে ১৯৯০ সাল থেকেই মদ নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দেদার চলছে এই অবৈধ মদের রমরমা কারবার। এর আগেও এই বিষমদ কাণ্ডে নাগাল্যান্ডে একাধিক মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে।
নাগাল্যান্ড পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ ভেসুপ্রা কেজো জানিয়েছেন, মৃতদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা গুয়াহাটিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বেশ কিছু সূত্র মিলেছে বলেও জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার পর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। প্রায় ৩ হাজার বোতল মদও উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদই মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডের বিধানসভায় আবগারি দপ্তরের দেওয়া তথ্যেই এর আগে সামনে এসেছে রাজ্যে বেআইনি মদের রমরমা কারবারের ছবি। দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, একাধিক জায়গায় ঠান্ডা পানীয়ের দোকানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই চলছে বেআইনি মদ বিক্রি। দিমাপুর ও কোহিমায় এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারি আলোচনায় উঠে এসেছে, আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ও ভেজাল মদ। এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম। একই সঙ্গে বৈধ মদের অতিরিক্ত দামও অনেক যুবককে আরও বিপজ্জনক নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নাগাল্যান্ড-অসমের দীর্ঘ ও অনিয়ন্ত্রিত সীমান্তও বেআইনি মদের কারবারে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে। সীমান্তবর্তী লাহোরিজানের মতো এলাকায় মদ সরবরাহকে ঘিরে বেআইনি ব্যবসা এবং অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে।