


নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর: আজ কি আদৌ পদত্যাগ করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার? নির্বাচনে ‘মহা কারচুপি’র অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ৪৮ ঘণ্টার ‘ডেডলাইল’ বেঁধে দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আর পদত্যাগ না করলে ‘যন্তরমন্তর 2.O’ হবে বলেও জানিয়েছিল ‘ককরোচরা’। সেই মতো আজ, শনিবার শেষ হচ্ছে ‘সময়সীমা’। জ্ঞানেশ কুমারের হাতে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। তবে এরই মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ শুরুও করে দিয়েছে। এছাড়াও কংগ্রেসের তরফে আলাদা আলাদা কর্মসূচি রাখা হচ্ছে দেশজুড়ে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে দেশের যুব সমাজ। ‘দফা এক দাবি এক, জ্ঞানেশের পদত্যাগ’, স্লোগান উঠছে সর্বত্র। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে সিইও দপ্তরের বাইরে।
‘জ্ঞানেশ কুমার ক্রিমিনাল’, শুক্রবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হয়ে তোপ সাংসদ মহয়া মৈত্রের। মহুয়া বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে যেতে হবেই। পদত্যাগ করতে হবেই। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামাতে চাইছে। এই সরকার বিক্ষোভকারীদের থামাতে চায়। কিন্তু আটকাতে পারবে না।’ এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে, সেই দাবিও রাখেন মহুয়া।
যদিও বিরোধীদের পাল্টা তোপ বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরেরও। তিনি বলেন, ‘একটি সংবাদপত্র কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া, কোনো সরকারি বিবৃতি ছাড়াই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিরোধী দল সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হট্টগোল করতে বা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। তারা নিজেদের পরাজয় ঢাকার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেস শাসন করেছে। তখন নির্বাচন কমিশনের কোনো দোষ তারা খুঁজে পায়নি। মিথ্যা অভিযোগ করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কখনও ইভিএমের বিরুদ্ধে, কখনও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, কখনও এসআইআর-এর বিরুদ্ধে, আর এখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে ও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোর (পিকে) বলছেন, ‘গত কয়েকবছর ধরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীরা এখন প্রশ্ন তুলছেন। ২০২১-এ নির্বাচনের পর আমি নিজে বলেছিলাম, কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে বিজেপি বাংলায় ৫০টা সিটও পেত না।’ জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে, গান্ধীজয়ন্তী থেকে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। যুব সমাজ ফের রাস্তায় নামছে। সব মিলিয়ে ফিরে এসেছে নিট আন্দোলনের পরিবেশ। তবে এবার ‘সংস্কার’ চাওয়া হচ্ছে কমিশনে।