


সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরে দিন দিন বাড়ছে টোটোর সংখ্যা। যার জেরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রতিদিনই হচ্ছে যানজট। সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটকরা। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলেও এখনও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি পুরসভা।
শনিবার রাতে নবরূপে সজ্জিত পুরসভার ‘উৎসর্গ’ মঞ্চের উদ্বোধনে এসে এই সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। শহরের যানজট কমাতে তিনি টোটোতে দু’টি আলাদা রং ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে এই পরামর্শ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
বর্তমানে বোলপুর শহরে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টোটো চালক রয়েছেন। এর সঙ্গে প্রতিদিন আশেপাশের গ্রামাঞ্চল থেকেও প্রায় দেড় থেকে দু’ হাজার টোটো শহরে ঢোকে। ফলে টোটোর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে। এই সমস্যা সমাধানে আগে উদ্যোগ নিয়েছিল পুরসভা। শহরের টোটো ও গ্রাম থেকে আসা টোটোর জন্য নির্দিষ্ট রুট তৈরির পরিকল্পনা হয়। টোটোগুলিকে নথিভুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া ও সেই নম্বর টোটোর পিছনে লাগানো বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী টোটোর রেজিস্ট্রেশন, নাম্বারিং ও কিউআর কোড দেওয়াও শুরু হয়। তবে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুট বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা যায়নি। ফলে যানজট সমস্যারও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ শহরবাসীর।
অনুব্রত বলেন, পুরসভা ভালো কাজ করছে। কাউন্সিলাররাও কাজ করছেন। তবে শহরে টোটোর সংখ্যা বেশি। মহকুমা শাসক ও আইসিকে বলব টোটোকে দু’টি ভাগে ভাগ করে চালানোর ব্যবস্থা করতে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একদল টোটো চলবে। অন্য দল দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। সব টোটো একসঙ্গে চালানো যাবে না। সকালে চলা টোটো এক রঙের হবে, আর বিকেলের টোটো অন্য রঙে চিহ্নিত করা যেতে পারে। ভোটের পর দ্রুত এই ব্যবস্থা চালু করা উচিত। এতে শহরের মানুষ উপকৃত হবেন।
বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ বলেন, শহরে যানজট কমাতে পুরসভা দ্রুত পদক্ষেপ করবে। রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা মাথায় রেখে টোটো নিয়ন্ত্রণ হবে।