


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: খুদে ছাত্রছাত্রীরা তখন সর্বশক্তি দিয়ে হাততালি দিয়ে চলেছে। মঙ্গলবার দুপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশন(মেইন) থেকে একঝাঁক পড়ুয়া গিয়েছিল বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম)। সেখানে হাততালি দিতে দিতে কেউ বলল, ‘আমাদের আজ গর্বের দিন।’ ‘কেন?’-এর উত্তরে সমস্বরে সবাই বলে উঠল, ‘আমাদের দেশের একজন ৪১ বছর বাদে মহাকাশে গেলেন। এটা খুবই গর্বের।’ তাদের আরও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ‘ক্যাপসুল কোথায় নামবে?’ ‘কখন নামবে?’ অবাক হয়ে বড়পর্দার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করছে, ‘ওইটুকু একটা সাদা জিনিসের ভিতর চারজন মানুষ আছেন কীভাবে?’ খুদেদের নানা ধরনের, নানা প্রশ্নের উত্তর ধৈর্য ধরে দিয়ে গেলেন বিআইটিএম’য়ের টেকনিক্যাল অফিসার তরুণ দাস।
দেখতে দেখতে ঘড়ির কাঁটায় তিনটে বেজে এক মিনিট। বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছে অন্ধকার চিরে চারটি প্যারাসুট ছোট একটি সাদা রঙের জিনিস নিয়ে আছড়ে পড়ল জলে। ‘শুভাংশুরা নামল?’ প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই বিআইটিএম’য়ের হল ঘর ফেটে পড়ল উল্লাসে। পাশের লোকের গলার আওয়াজ পর্যন্ত শোনার জো নেই। কচিকাঁচারা চিৎকার করে বলছে, ‘ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়া।’ এরপর আবার পিন ড্রপ সাইলেন্স। আবার অপেক্ষা। ‘ক্যাপসুল তো ভাসতে শুরু করল। কিন্তু সবাই বের হবেন কখন?’ অপেক্ষা শেষ হল আরও প্রায় একঘণ্টা বাদে। ক্যাপসুল থেকে হাসিমুখে বেরলেন শুভাংশু শুক্লা এবং অন্যান্যরা। শুভাংশু হেঁটে চলে গেলেন। গোটা বিশ্ব দেখল, তাঁর হাতে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা।
এদিন মহাকাশের খুঁটিনাটি নিয়ে কুইজের আয়োজনও হয়েছিল এখানে। তারপর মজার ছলে মহাকাশযানের খুঁটিনাটি বোঝানো হয় খুদেদের। তরুণবাবু বললেন, ‘নিঃসন্দেহে ভারতের কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন। সকলে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন। দেশবাসীর কাছে এই দিন বিশেষ আনন্দের। এবার অপেক্ষা গগনযানের।’ ‘ড্রাগন ক্যাপসুল এল। ১৮দিন বাদে পৃথিবীকে ব্যাক ড্রপে রেখে শুভাংশুর হাসিমুখ দেখার এবার অপেক্ষা।’ এ কথা বলতে না বলতেই দরজা খুলে সবার সঙ্গে বেরলেন শুভাংশু। খুদেদের উচ্ছ্বাস তখন আর ধরে রাখার মতো অবস্থায় নেই। এ চিত্র কলকাতার শুধু নয়।
হাওড়ার আমতায় গাজিপুর থাকময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও শুভাংশুকে হাঁ করে দেখল। এদিন শিক্ষকদের কাছে মহাকাশচারীদের অবতরণ লাইভ দেখার আবদার করেছিল পড়ুয়ারা। তা মেনে নেন শিক্ষকরা। বড় পর্দায় শুভাংশুকে বেরিয়ে আসতে দেখে পড়ুয়ারা উচ্ছ্বাস দেখানো শুরু করে। প্রধানশিক্ষক সায়ন দে বললেন, ‘মহাকাশ নিয়ে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে প্রতি সপ্তাহে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহাকাশের বিষয় দেখানো হয়। আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য সুনীতা উইলিয়ামস বা শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ সফর দেখানোরও ব্যবস্থা করি।’