


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট শুরু করেছে ‘অপারেশন প্রহার’। এক কথায় সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কমিশনারেট এলাকাজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চলছে, তাতেই একমাসে গ্রেপ্তার হয়েছে ১১৫ জন। সর্বশেষ সাফল্য সোমবার রাতে নিয়ামতপুর মুচিপাড়া থেকে সাত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা। যাদের থেকে ছ’টি মোবাইল, দুই বাইক বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরে শুধু মাত্র শিল্পাঞ্চল থেকেই ৪৫ কোটি টাকার বেশি সাইবার প্রতারণা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে, ব্যবসায়ীদের শেয়ারে বিপুল লাভের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা চলছে। প্রতিদিন বিভিন্ন থানা এলাকায় বিপুল সংখ্যাক অভিযোগ জমা পড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে অভিযানে যাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পুলিশ আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকাতেও অভিযানে আসছে। অভিযোগ উঠছে, শিল্পাঞ্চলের পাঁচটি ডেরা মিনি জামতাড়া হয়ে উঠেছে। এই এলাকাগুলিতে বসে দেশজুড়ে টাকা লুট চলছে। এতে শিল্পাঞ্চলের ভাবমূর্তিও খুণ্ণ হচ্ছে। এই লাগাতার সাইবার প্রতারণার জাল ছিন্ন করতেই পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন প্রহার’।
পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, চলতি বছরেই শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল টাকা লুট হয়েছে। আবার আমাদের এখানে বসেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে টাক লুট করার অভিযোগ আসছে। আমাদের এলাকায় কোনো মতেই সাইবার প্রতারকদের বাড়বাড়ন্ত বরদাস্ত করা হবে না। তাই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। একাধিক জায়গা চিহ্নিত হয়েছে যেখানে সাইবার অপরাধীরা ডেরা করছে। বেশিরভাগের সঙ্গে জামতাড়ার যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলের অন্যতম মিনি জামতাড়া হয়ে উঠেছে নিয়ামতপুর মুচিপাড়া বা হরিজন পাড়া। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রসাদোপম বাড়ি। ফলস সিলিং থেকে দামি মার্বেল গ্রানাইটের মেজে। মডিউলার কিচেন। যাঁদের আগের প্রজন্মই জুতো পালিশ করে, লোকের বাড়িতে কাজ করে দিনগুজরান করত, তারাই এখন বিলাস বৈভবের মধ্যে বাস করছে। মূলত শিক্ষিত বেকার যুবকরাই সাইবার প্রতারণা চক্রে যোগ দিয়ে সংসারের হাল ফেরাচ্ছে। প্রথম দফায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। বিপুল সংখ্যাক, এটিএম কার্ড, পাসবুক সহ নানা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফা অভিযান হয় সোমবার রাতে। সেখানেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি অভিযানের পর এতদিন তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছিল। একই ভাবে জামুড়িয়ার শ্রীপুর-নিঘা এলাকা, রানিগঞ্জ, ও দুর্গাপুরের ভ্যাম্বে কলোনি, কাদা রোডে সাইবার প্রতারকদের ডেরা গড়ে উঠেছে বলে পুলিশের দাবি। সর্বত্রই একযোগে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। যদিও এক সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশজুড়ে একসঙ্গে স্পেশাল ড্রাইভ চালাতে হবে। না হলে অপরাধীরা এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় ডেরা বাঁধবে। পুলিশি অভিযান শিথিল হলেই ফের ডেরায় ফিরে আসবে।