


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংগীত জমানার ‘শেষ মুঘল’ও পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। আশা ভোঁসলে নেই। ৯২ বছর বয়সে দিদি লতা মঙ্গেশকরের মতোই মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে থেমে গেল তাঁর হৃদস্পন্দন। বুকে সংক্রমণ নিয়ে শনিবার ভরতি হয়েছিলেন। অবস্থা ভালো নয়, ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডাক্তাররা। তখনই প্রার্থনায় বসেছিল আসমুদ্রহিমাচল। কিন্তু ধরে রাখা গেল না এই কিংবদন্তি গায়িকাকে। রবিবার এল শোক সংবাদ। ‘আশা তাই’ প্রয়াত। রবিবার হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়েছে দেহ। আজ সোমবার শেষকৃত্য শিবাজি পার্ক মহাশ্মশানে।
বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন লতা। দিদির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আশা। ১৯৪৩ সাল। মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমায় ‘চলাচল নওবালা’ গান দিয়ে সংগীতজগতে হাতেখড়ি। হিন্দি ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক ১৯৪৭ সালে। ‘চুনরিয়া’ ছবিতে। একটা যুগের সূচনা। তার অবসান হল রবিবার। ১২ হাজারের বেশি গান। ‘আইয়ে মেহরবান’, ‘দিওয়ানা হুয়া বাদল’, ‘কাজরা মহব্বতওয়ালা’, ‘পিয়া তু’ ‘আজা আজা’, ‘রাধা ক্যায়সে না জ্বলে’... আরও কত। কিশোর কুমার, মহম্মদ রফির সঙ্গে তাঁর ডুয়েট আজও প্রেমের থিম সং। সব ধরনের গানে তিনি সাবলীল। বাংলায় ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘আসব আরেক দিন’... গানগুলি চিরকালীন।
গানের মধ্যেই তাঁর যাপন। রাহুল দেববর্মন বা দিদি লতার সঙ্গে সম্পর্কের ‘অবনতি’... ঘটনা ও রটনার ঘেরাটোপে গানই তাঁর বন্ধু। অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত। প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসাবে গ্র্যামি মনোনয়ন। দাদাসাহেব ফালকে, পদ্মবিভূষণ, ‘গিনেজ বুক’ সহ বহু সম্মানে সম্মানিত। সংগীতের মৃত্যু নেই। শিল্পীরও না। আশাজির সেই লাইন যে এখনও কানে বাজছে — ‘আভি না যাও ছোড় কে...’।