


সোমবার মুম্বইয়ের আকাশ মেঘলা। অশ্রুসজল নয়ন মেঘের গাম্ভীর্য বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। একে একে আসছেন বিশিষ্ট থেকে সাধারণ মানুষ। ভিড় বাড়ছে মুম্বইয়ের লোয়ার পারলের বাসভবনের সামনে। তাঁরা সকলে বুঁদ এক কণ্ঠস্বরের মোহে। আট থেকে আশি... সকলে নিজেদের সমর্পণ করেছেন তাঁর সুরসাধনার কাছে। শায়িত আশা ভোঁসলেকে দেখে প্রণাম করছেন তাঁরা। আর ভাসছে সেই গান— ‘আভি না যাও ছোড় কর...’।
রবিবার স্তব্ধ হয়েছে কণ্ঠ। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত আশা ভোঁসলে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মাল্টি অর্গান ফেলিওরের জেরে মৃত্যু। রবিবারই লোয়ার পারলের বাসভবনে আনা হয়েছিল মরদেহ। সোমবার সকালে ‘আশা তাই’কে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে পৌঁছন অগণিত ভক্ত। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয় আশাকে। এসেছিলেন আমির খান, রণবীর সিং, ভিকি কৌশল, টাবু, রীতেশ দেশমুখ, বিদ্যা বালান, এ আর রহমান, জ্যাকি শ্রফ সহ আরও অনেক তারকা। এসেছিলেন শচীন তেন্ডুলকর। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রী অঞ্জলি তেন্ডুলকর সামলান ক্রিকেট তারকাকে। রবিবার শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আশার পরিবর্তে লতা মঙ্গেশকরের ছবি শেয়ার করে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়েছেন আথিয়া শেট্টি। পাশাপাশি আশাজিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পরবর্তী ছবির ফার্স্টলুক মুক্তির তারিখ পিছিয়েছেন বরুণ ধাওয়ান।
সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ এসেছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। আশাকে শেষশ্রদ্ধা জানান তিনি। একুশ তোপে আশাকে বিদায় জানানোর সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি আশার পরিবার, অনুরাগীরা। ছেলে আনন্দ ভোঁসলে দাঁড়িয়ে ছিলেন এককোণে। দুপুর দু’টো নাগাদ লোয়ার পারলের বাড়ি থেকে দাদরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। ভিড় সামাল দিতে নিযুক্ত ছিল হাজারের বেশি পুলিশ। বিকেল চারটে। শিবাজি পার্ক মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন। সুরলোকে পাড়ি দিলেন আশা। ধীরে ধীরে শূন্যতা গ্রাস করল মুম্বইকে। কলকাতাকে। গোটা দেশকে। অমিতাভ বচ্চন লিখলেন, ‘তাঁর কণ্ঠের জাদুতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রতিটি গান। আশাজি আমাদের জন্য রেখে গেলেন চিরন্তন সংগীতের এক সম্পূর্ণ এনসাইক্লোপিডিয়া।’ শোকস্তব্ধ হেলেনের শোকবার্তা, ‘ওঁর জন্যই আমার অস্তিত্ব।’ সকলের স্মৃতিতে ফিরে ফিরে আসছে এক লাইন—
‘... দিল অভি ভরা নেহি’।