


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গোলাবাড়ি, সাঁকরাইলের পর এবার হাওড়ার বাঁকরায় রাতের অন্ধকারে এটিএম মেশিন ভেঙে টাকা লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাঁকড়ার মুন্সিরডাঙা মোড়ে হাজি মার্কেটের কাছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দমকলে খবর দেওয়া হলে একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা। নিরাপত্তারক্ষীহীন ওই এটিএম কাউন্টারের সিসি ক্যামেরার সংযোগ আগেই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এটিএম মেশিন ভেঙে কয়েক লক্ষ টাকা লুট করে তাতে আগুন ধরিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। এটিএম লুটের এই বিশেষ কৌশল কুখ্যাত হরিয়ানা গ্যাংয়ের কাণ্ড বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
শীতের রাত। রাস্তা শুনশান। সেই সুযোগেই জাতীয় সড়ক থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে বাঁকড়া হাজি মার্কেটের কাছে এটিএমে লুট করা হয়। এটিএম কাউন্টারের সিসি ক্যামেরা কাজ না করলেও স্থানীয় একটি দোকানের ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপের ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত দু’টো নাগাদ এটিএম কাউন্টার থেকে কিছুটা দূরে একটি চারচাকা গাড়ি এসে দাঁড়ায়। সেখান থেকে ৪-৫ জন নেমে এটিএম কাউন্টারে ঢুকে শাটার নামিয়ে দেয়। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে অপারেশন। শাবল দিয়ে প্রথমে এটিএম মেশিন উপড়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। গ্যাস কাটার দিয়ে মেশিন কেটে টাকা লুট করে তারা। সবশেষে এটিএম কাউন্টারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভোর চারটের আগেই এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। গাড়িতে করে ফের জাতীয় সড়কের দিকে চলে যায় তারা। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সাউথ সুরিন্দর সিং বলেন, ‘কত টাকা লুট হয়েছে, তা এখনও জানাতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটিএম লুটে এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে কুখ্যাত হরিয়ানা গ্যাং। গাড়িতে এটিএম মেশিন কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে বের হয় এরা। ট্রাফিক সিগন্যাল, অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, যানজটপ্রবণ এলাকা এড়াতে জাতীয় সড়ক ধরেই এগোয়। এরপর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত নির্জন কোনও রাস্তায় ঢুকে গভীর রাতে রক্ষীবিহীন এটিএম লুট করে দলটি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সাঁকরাইলের আলমপুরের কাছে একই কায়দায় এটিএম লুটের ঘটনা ঘটেছিল। গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম মেশিন কেটে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা লুট করেছিল দুষ্কৃতীরা। তার আগে গোলাবাড়ি থানা এলাকাতেও হয়েছিল এমন কায়দায় এটিএম লুট।