


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পুলিশকে দলদাসে পরিণত করে বাংলার মানুষকে নিরাপত্তহীন করে তুলেছে বঙ্গ বিজেপি সরকার। আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ভোররাতে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের অফিস ভাঙচুরের ঘটনার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। দু’জনের সঙ্গেই সাক্ষাতের সময় চেয়ে দেওয়া হয়েছে চিঠি। এদিন দিল্লিতে দলের অফিস ৬১ সাউথ অ্যাভিনিউতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূলের লোকসভার ডেপুটি লিডার সৌগত রায় ও সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানেই তাঁরা এ ব্যাপারে ক্ষোভ উগরে দেন। সৌগত রায় জানান, গত ১৮ আগস্ট কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় যেভাবে তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল, তাতে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও দিয়েছিলেন সৌগতবাবু। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। আর স্পিকার কোনো জবাবই দেননি। তাই অমিত শাহকে লিখতে বাধ্য হলাম।’
এদিকে, দলের অফিস ভাঙচুর, নেতা-কর্মীদের হেনস্তার ইস্যুতে সৌগত-মহুয়ার প্রশ্ন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে এ কী দিন দেখতে হচ্ছে? তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর হচ্ছে, দলের নেতা-কর্মীদের অহেতুক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শুভেন্দু অধিকারী কোন অধিকারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুমকি দিয়ে বলতে পারেন যে আপনাকে বাড়ি থেকে বেরতে দেব না? তৃণমূলের নাম-নিশান মিটিয়ে দেব? এটা কি গণতন্ত্র?’ তোপ দেগে মহুয়া আরও বলেন, ‘বিজেপি যেন ভুলে না যায়, এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ২.৬ কোটি মানুষের সমর্থন পেয়েছে। তাই তূণমূলকে ভয় দেখিয়ে, অফিস ভাঙচুর করে চুপ করানো যাবে না।’