


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুর হাসপাতালের মর্গে জমে থাকা ২২টি পচা-গলা দেহের সৎকার হল। শুক্রবার গভীর রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মর্গে জমা অন্তত ২২টি অজ্ঞাত পরিচয় বেওয়ারিশ দেহ দাহ করা হয়েছে। তবে এখনও তিনটি দেহ মর্গেই রয়ে গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে বাকি দেহগুলিরও দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা হবে। জঙ্গিপুরের বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জানান, ২২টি পচাগলা দেহের সৎকার হয়েছে। যে কয়েকটি রয়েছে সেগুলিরও শীঘ্রই সৎকার হবে।
মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে কুলিং ব্যবস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ ১২টি মৃতদেহ রাখা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে বেওয়ারিশ লাশগুলি সরানো বা সৎকার সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে, বাড়তে কার্যত মরদেহ জমতে থাকে। এভাবে সম্প্রতি ওই মর্গের কুলিং সিস্টেমই বিকল হয়ে যায়। ফ্রিজ বন্ধ হতেই জমে থাকা দেহগুলিতে পচন ধরতে শুরু করে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে গোটা হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ, সর্বত্রই দুর্গন্ধে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়। সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিবার তো বটেই, দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে পরিষেবা দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আতঙ্কে প্রহর গুনছিলেন সবাই। একাধিকবার এই নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুক্রবার রাতে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয় ২২টি পচা-গলা দেহ।
হাসপাতাল সুপার মৃণালকান্তি হালদার বলেন, দীর্ঘদিন জমে থাকা অধিকাংশ দেহেরই সৎকার হয়েছে। মূলত মর্গের কুলিং সিস্টেম বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছিল। আপাতত সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে বিকল কুলিং সিস্টেম দ্রুত মেরামতির জন্য স্থানীয় বিধায়ক এবং পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।