


সংবাদদাতা, বসিরহাট: আদালতের নির্দেশে বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সর্বত্র। বাদুড়িয়ার মেদিয়া হাই স্কুলও সঙ্কটে ভুগছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী না থাকায় স্কুলের একাধিক কাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন স্বপন চক্রবর্তী নামে এক প্রৌঢ়। তিনি স্কুলের গেট খুলে দিচ্ছেন। ঘণ্টা বাজাচ্ছেন। শিক্ষকদের পরিষেবাও দিচ্ছেন। বিনা পারিশ্রমিকে এই কাজ করে চলেছেন তিনি।
সেবামূলক কাজ স্বপনবাবু এই প্রথম করছেন এমন নয়। ৫৭ বছরের এই প্রৌঢ় এর আগে নিজের টাকায় গ্রামের স্কুলে গড়ে দিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি। মেদিয়া গ্রামে বাড়ি তাঁর। স্ত্রী উমা চক্রবর্তী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। মূক ও বধির। স্বপনবাবু বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আমার সন্তানের মতো। ওদের মধ্যে আমি আমার শৈশব খুঁজে পাই। শিশুরা মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠুক। সে জন্য সেবামূলক কাজ করতে আমি রাজি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ, এই প্রান্তিক এলাকার ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুবিধায় মেদিয়া স্কুল উচ্চমাধ্যমিক করা হোক।’ তমাল মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বিনা পারিশ্রমিকে এইভাবে স্কুলের পাশে থাকার মানুষ বিশেষ দেখা যায় না। আমরা চাই স্বপনবাবুর প্রতি সরকার নজর দিক।’ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বপনবাবু না থাকলে বিদ্যালয় পরিচালনা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠত। তিনি সাধারণের মধ্যে একজন অসাধারণ মানুষ।’ প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর যাবতীয় কাজ স্বপনবাবু আন্তরিকতার সঙ্গে করেন। ছাত্রছাত্রীরা ওঁকে খুব ভালোবাসে। স্কুলের শিক্ষকরা ওঁকে খুব শ্রদ্ধা করেন।’ নিজস্ব চিত্র