


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগানে আততায়ীদের টার্গেট ছিল ফ্ল্যাট মালিক জিৎ মুখোপাধ্যায়ের শাগরেদ বাচ্চা সিং। কিন্তু সেদিন বাচ্চা জিতের ফ্ল্যাটে না আসায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। ধৃতদের জেরা করেই এই তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। বাচ্চাকে খতম করারই প্ল্যান ছিল দক্ষিণ কলকাতার এক দুষ্কৃতীর। সে জয়ন্ত ঘোষকে এই কাজে লাগিয়েছিল। বর্তমানে জয়ন্ত জেল হেপাজতে রয়েছে। ২৬ মার্চ বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগানে একটি আবাসনের চারতলার ছাদে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রাহুল দে নামের এক যুবকের। মারধর করা হয় ফ্ল্যাটের মালিক জিৎ মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর ফ্ল্যাটের চারতলার ছাদেই সেদিন পার্টি চলছিল। সেখানেই রাহুলকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে রাহুলকে গুলি চালিয়েছিল, সে এখনও অধরা। রাহুলকে গুলি করা হল কেন, এই নিয়ে জয়ন্ত বিশ্বাস পুলিশের কাছে দাবি করেছে, ওই যুবক টার্গেট ছিল না। ভুল করে গুলি করেছে সুকুমার রজক নামের এক যুবক। মদের নেশায় সে এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। অভিযুক্তদের দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জিৎ ও তার শাগরেদ বাচ্চা। তারা দু’জনে গড়িয়া, নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। জিৎ এই সব এলাকায় সাট্টার ঠেক চালায়। একইসঙ্গে জিতের মদতে পাটুলিতে তোলাবাজি করত বাচ্চা। সেই কারণেই তারা চাইছিল, বাচ্চাকে সরিয়ে দিতে। পুরানো বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে ওইদিন তারাই জিৎকে বলেছিল বাচ্চাকে ডাকতে। কিন্তু কোনো কারণে বাচ্চা ওইদিন আসতে পারেনি। জিৎকে হাতের কাছে পেয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাতে তার হাত ও পায়ের একাধিক হাড় ভেঙেছে। জয়ন্ত জেরায় জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় সুকুমার বন্দুক বের করে গুলি চালিয়ে বসে। গুলি লাগে রাহুলের গায়ে। মৃত্যু হয় তাঁর।