


সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: গোরু পাচার রুখতে গিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতে এক বিএসএফ জওয়ান অপহৃত হয়েছেন। এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি সীমান্তে। স্থানীয় এবং বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃত জওয়ানের নাম বেদ প্রকাশ। তিনি বিএসএফের ১৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত। সূত্রের খবর, রবিবার ভোররাতে একদল বাংলাদেশি নাগরিক গোরু পাচারের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি আঁচ করে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ান বাধা দিলে পাচারকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে জোর করে বাংলাদেশের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং বিজিবি’র হাতে তুলে দেয়। সীমান্তের ওপারে বিজিবির ৫১ নম্বর ব্যাটালিয়ন তাঁকে আটক করে। ঘটনার খবর ছড়াতেই মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মধ্যে ঘনঘন আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, কুচলিবাড়ি, দহগ্রাম- অঙ্গারপোঁতা ও তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও গোরু পাচারের চেষ্টা মাঝেমধ্যেই ঘটে বলে অভিযোগ। দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা সীমান্তের কয়েকটি অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ না-হওয়ায় উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়েই পাচার ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন মরশুমে এধরনের ঘটনা বেড়ে যায় বলেও জানা যায়। এদিন ভোররাতেও ঘন কুয়াশার সুযোগ নিতে চেয়েছিল পাচারকারীরা।
আটক জওয়ানের কাছ থেকে একটি শর্টগান, দুই রাউন্ড গুলি, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযোগের কথা ছড়িয়ে পড়তেই সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। সন্ধ্যায় খবর লেখা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিয়ম মেনে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আটক বিএসএফ জওয়ানকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নজরে রাখছে পুলিশও। মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরাও অবগত। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই জওয়ানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।