


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানে বাধা। ভারতীয় চা চাষিকে অপহরণ করে 'বদলা' নিল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুকুরজান এলাকায় ঢুকে এক চা চাষিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানে বিএসএফ বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় বদলা নিতেই এই অপহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএসএফকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভুখন্ডে নিজের চা বাগানে কাজ করছিলেন স্থানীয় তসরপাড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপ। সেসময় তাঁকে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা অপহরণের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাঁর। এরপর ওই ভারতীয় চা চাষিকে জোর করে টানতে টানতে বাংলাদেশ ভুখন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হস্তক্ষেপ করে বিএসএফ। অপহৃত ভারতীয় নাগরিককে ফেরাতে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করেন বিএসএফের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন দীপঙ্কর গোপ। তাঁকে সুস্থ শরীরে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিএসএফের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ৬ আগস্ট এক বাংলাদেশি পাকড়াও হয় এপারে। তাকে মুক্তির দাবিতে ওই ভারতীয় চা চাষিকে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা অপহরণ করেছে। যদিও এনিয়ে পুলিশ বা বিএসএফ আধিকারিকরা কেউ মুখ খুলতে নারাজ।
পাশাপাশি, বাংলাদেশে অপহৃত চা চাষীকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক তরফে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। জানালেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার। তিনি বলেন, যাঁকে অপহরণ করা হয়েছে, তিনি আমার বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানার পরই সাংসদ ও জেলাশাসককে জানানো হয়। বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করেছে বিএসএফ। যতদূর জানতে পেরেছি, ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে কোনো এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। শুনতে পারছি, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন এপারে ধরা পড়ে। তার মুক্তির দাবিতে ভারতীয় চা চাষীকে অপহরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, শবিনার সকালে দীপঙ্কর গোপ নামে ওই ক্ষুদ্র চা চাষী যখন চাউলহাটি সীমান্তের বালাসন ক্যাম্পের অধীন ৩০ নম্বর গেট দিয়ে কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভুখন্ডে নিজের বাগানে কাজে যান, তখন বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে। বিজয়গোপালের দাবি, গাদরা থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় এবং কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভুখন্ডে প্রচুর ক্ষুদ্র চা বাগান আছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এমনিতেই ক্ষুদ্র চা চাষীরা কাঁচা পাতা বিক্রি করতে পারছেন না। পাতার দাম মিলছে না। তার উপর নিজের বাগানে কাজ করতে গিয়ে অপহৃত হতে হয়, সেটা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।