


সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: ভারত-বাংলাদেশ উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের তরফে শুরু হয়েছে মাপজোক। আর তা দেখে কার্যত রাতের ঘুম উড়ছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের।
সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের মোট ২৯ কিমি সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ কিমি উন্মুক্ত। এই উন্মুক্ত অংশর মধ্যে নতুনবস্তি, নলজোওয়া পাড়া, চিলডাঙা, বারুইপাড়া, বনগ্রাম, ডাকের কামাত সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে উন্মুক্ত এলাকাগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য সীমান্তবাসীর কাছ থেকে এনওসি নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবাসী মানুষও দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনকে জমি দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু, নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে এখন। সম্প্রতি বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার থেকে ১৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। পাশাপাশি বর্ডার রোড থেকে ১০০ গজ দূরে বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই নির্দেশিকা সামনে আসার পর ফৌদারপাড়া, ছয়ঘরিয়া পাড়া, নতুনপাড়া, বুড়িজোত সহ মোট ১৪টি পাড়ার বাসিন্দাদের রাতের ঘুম উড়ছে।
রবিবার দক্ষিণ বেরুবাড়ি পঞ্চায়েতের বুড়িজোত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন গ্রামবাসীরা। বৈঠকে এলাকাবাসী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিটেমাটি ও বাড়ি বাদ দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হোক। না হইলে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায়, দুফুরু রায় বলেন, কষ্টার্জিত অর্থে পাকা বাড়ি তৈরি করেছি। এখন যদি জিরো পয়েন্ট থেকে ২৫০ গজ দূরে বেড়া দেওয়া হয় তবে কয়েকশো পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়তে হবে। বিষয়টি প্রশাসনকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখার কথা বলা হয়েছে। এবিষয়ে জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।