


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কর্পোরেশন ঘোষণা করেই পুরভোট হবে বর্ধমানে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে সমীক্ষার কাজ শেষ হচ্ছে। বর্তমানে পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। তা বেড়ে প্রায় ৫০টি হতে পারে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন কোন পুরসভা পুরনিগমে উন্নীত হতে পারে, তার তালিকা আগেই তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে বর্ধমান শহরের নাম। এক আধিকারিক বলেন, শহরের আশেপাশের তিন-চারটি পঞ্চায়েতের বেশ কিছু গ্রাম কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্ধমান পুরসভা কর্পোরেশনে উন্নীত হলে একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ছাড়াও শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। ওই সমস্ত এলাকাগুলিতে একের পর এক বহুতল তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ধমান শহরের উন্নয়ন থমকে রয়েছে। দুর্গাপুজো পেরিয়ে গেলেও এখনও বহু রাস্তা বেহাল। আলমগঞ্জ, গোদার বেশ কিছু রাস্তার বহুদিন সংস্কার হয়নি। পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষর দাবি, অর্থের অভাবেই কাজ করা যাচ্ছে না। পুরসভার আয় কমে গিয়েছে। কর্পোরেশন হলে অর্থের সমস্যা থাকবে না। তাছাড়া গ্রামীণ এলাকাগুলি পুরনিগমের আওতায় এলে ট্যাক্স বাড়বে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, পুজোর আগে আমরা বকেয়া কর আদায়ে জোর দিয়েছিলাম। সেই কারণে সমস্ত কর্মী এবং আধিকারিকদের বেতন, বোনাস দেওয়া গিয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, পুরসভার আয় অনেক কমে গিয়েছে। কর্পোরেশন তৈরির তোড়জোড় অনেক দিন ধরেই চলছে। তা হলে ভালোই হবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, বর্ধমান শহরের অনেক আগেই কর্পোরেশন হওয়া দরকার ছিল। তৃণমূল তা করেনি। আমাদের সরকারের একটাই লক্ষ্য উন্নয়ন করা। এই শহর কর্পোরেশনে উন্নত হবেই। আরেক আধিকারিক বলেন, কর্পোরেশনের জন্য যেসব শর্ত মানা দরকার, তা সবটাই এই শহরে রয়েছে। জনসংখ্যা অনেক বেশি। পরিকাঠামোও রয়েছে। তাই কোনো দিক থেকে আটকে যাওয়ার কথা নয়। পুরভোটের আগেই সব কিছু সম্পুর্ণ করা হবে। এছাড়া রাজ্যে আরও কয়েকটি নতুন পুরসভাও তৈরি হতে পারে। নতুন বছরের গোড়াতেই বর্ধমানে সুখবর আসার সম্ভবনা। কোন কোন এলাকা কর্পারেশনের মধ্যে আসতে পারে, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি রয়েছে। তবে সেটি ধরেই হবে নাকি নতুন করে সমীক্ষার পর কর্পোরেশন ঘোষণা হবে তা ঠিক হয়নি।