


রিয়াল মাদ্রিদ- ১ : বায়ার্ন মিউনিখ- ২
(এমবাপে) (লুইস, হ্যারি কেন)
মাদ্রিদ: লোরাখের বাড়িতে বসে ২৫ বছর আগের সেই রাতের কথা নিশ্চই মনে পড়ছে ওটমার হিজফিল্ডের। মঙ্গলবার সারারাত হয়তো আনন্দে ঠিকমতো ঘুম হয়নি ৭৭ বছর বয়সি এই প্রাক্তন কোচের। ১৩ বছর আগে পেশাদার কোচিংয়ে ইতি টেনেছেন। তবে আজও ফুটবলকে নিয়েই কাটছে তাঁর জীবন। সিংহভাগ জুড়ে বায়ার্ন মিউনিখ। আর মঙ্গলবার যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হতে দেখলেন প্রাক্তন এই জার্মান কোচ। ২০০১ সালে তাঁর প্রশিক্ষণেই শেষবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জিতে মাঠ ছেড়েছিল বায়ার্ন। তারপর দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষা! অবশেষে মঙ্গলবার রাতে হিজফিল্ডকে স্পর্শ করলেন ভিনসেন্ট কোম্পানি। বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে দ্বিতীয় কোচ হিসেবে মাদ্রিদে জয়ের মুখ দেখলেন বেলজিয়ামের প্রাক্তন ডিফেন্ডার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতে মাঠ ছাড়লেন হ্যারি কেনরা। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১-২ গোলে হার রিয়ালের। ফলে শেষ চারের পথটা কঠিন হল এমবাপেদের। সেই সঙ্গে চাপ বাড়ল কোচ আর্বেলোয়ার উপরে। ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে জাল কাঁপান লুইস ডিয়াজ ও হ্যারি কেন। রিয়ালের একমাত্র গোলটি এমবাপের। ১৫ এপ্রিল ফিরতি পর্বে অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় মুখোমুখি হবে দু’দল।
মঙ্গলবার রাতের আগে যাবতীয় পরিসংখ্যান ছিল রিয়ালের পক্ষে। ঘরের মাঠে শেষ চারটি সাক্ষাৎকারের মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। অপর ম্যাচটি ড্র। তবে মাঠের লড়াইয়ে অতীতের ফল যে খুব একটা গুরুত্ব রাখে না, তা প্রমাণ করলেন হ্যারি কেনরা। বিপক্ষের ডেরায় শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল মেলে ধরেন তাঁরা। আর বায়ার্নের সাঁড়াশি আক্রমণের সামনে রীতিমতো দিশাহারা দেখায় রিয়ালকে। যদিও গোলের জন্য ৪১ মিনিট অপেক্ষা করেছে কোম্পানি-ব্রিগেড। প্রতিপক্ষ বক্সে সার্গে নাব্রির পাস থেকে খুব সহজেই আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে টপকে জাল কাঁপান লুইস ডিয়াজ (১-০)। আর বিরতির পরেই ব্যবধান বাড়ান হ্যারি কেন। মাঝমাঠে আলভারো কারাকাস বলের দখল হারাতেই দ্রুত গতিতে আক্রমণে ওঠেন পাভলোভিচ। তাঁর থেকে পাস ধরে গোলের জন্য হ্যারি কেনকে বল সাজিয়ে দেন ওলিসি। তা থেকে বক্সের বাইরে থেকে সহজেই জাল কাঁপান ইংল্যান্ড অধিনায়ক (২-০)।
ঘরের মাঠে দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া প্রয়াস চালায় রিয়াল। এই পর্বে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভিনিসিয়াস। তবে ৭৫ মিনিটে ব্যবধান কমান এমবাপে (২-১)। এরপর বেশ কয়েকবার দলের নিশ্চিত পতন রুখে বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করেন ৪১ বছরের ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
দিনের অপর কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বিপক্ষের ডেরায় দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল আর্সেনাল। লিসবনে স্পোর্টিংকে ১-০ গোলে হারাল গানাররা। ম্যাচের সংযোজিত সময়ে দুরন্ত গোল কাই হাভার্টের। সেই সুবাদে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে শেষ চারের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল মিকেল আর্তেতা ব্রিগেড। এদিনের ম্যাচের নায়ক আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। বার তিনেক দলের নিশ্চিত পতন রুখে গানারদের লড়াইয়ে রাখেন তিনি।