


প্রণব রায়: এ কোন সকাল, রাতের থেকেও অন্ধকার। বাংলা ক্রিকেটের এটাই এখন বাস্তব চেহারা। মুস্তাক আলি, বিজয় হাজারের পর রনজি ট্রফিও গেল। তিন-তিনটে টুর্নামেন্টেই ব্যর্থ। রনজির শেষ চারে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও হারটা মেনে নেওয়া কঠিন। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে অল-আউটের সত্যিই কোনও ব্যাখ্যা নেই। আসলে গলদটা গোড়ায়। বাংলা ক্রিকেটের সমস্যাটা সিস্টেমে। মানসিকও বটে।
ইদানীং নক-আউটে হারাটা বাংলার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদীপ ঘরামি কোয়ার্টার-ফাইনালে ২৯৯ রানের ইনিংস না খেললে আগেই বিদায় নিত দল। তাই ব্যাটিংয়ে সমস্যাটা ছিলই। সবাই বলাবলি করছে, সুদীপ (চ্যাটার্জি), অনুষ্টুপদের বয়স হওয়া সত্ত্বেও কেন খেলানো হচ্ছে? আরে, নতুন প্লেয়াররা ওদের জায়গা নিতে পারছে না বলে খেলছে। এতে তো ওদের দোষ নেই। সাপ্লাই লাইনই তো নেই। সম্প্রতি আমরা ক’জন বাংলার প্লেয়ার তুলেছি? যে বা যারা জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত খেলছে। আকাশদীপ, সামিদের কথা বাদ দিচ্ছি, কারণ ওরা অন্য রাজ্যের ক্রিকেটার। তাহলে কি বাংলায় প্রতিভা নেই? এটা আমি মানতে পারব না। আসলে প্লেয়ার তোলার সদিচ্ছাটাই নেই। দ্বিতীয় ডিভিশনে ক্রিকেট কীভাবে চলে তা সবাই জানেন। নতুন প্রতিভারা মঞ্চই পাচ্ছে না। যার বাবার টাকা আছে খেলছে, যার নেই সে ব্রাত্য। এভাবে চললে কোনওদিনই বাংলার ক্রিকেটের উন্নতি হবে না। সেই কখন ১৯৮৯-৯০ মরশুমে শেষবার রনজি ট্রফি এসেছিল। তারপর শুধুই হা-হুতাশ। আগের কথা ছাড়ুন, এখন তো সিএবি’তে অঢেল টাকা। পরিকাঠামোও ভালো। তাহলে সাফল্য আসছে না কেন?
বাংলার ব্যর্থতার নেপথ্যে মানসিক দৃঢ়তাও বড় ফ্যাক্টার। জম্মু ও কাশ্মীরের ছেলেরা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বড় হয়েছে, সুযোগ-সুবিধা কম। তারা লড়তে জানে। আর বাংলার ক্রিকেটারদের মুখে তো সোনার চামচ। তাই তাগিদ কম। মূল বিষয়, সিস্টেমটা ঠিক করা প্রয়োজন। না হলে পরের বছরও একই নাটক মঞ্চস্থ হবে। বদলাবে শুধু তারিখ।