


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষুদ্র শিল্পে ফের সেরার শিরোপা পেল রাজ্য। দেশের সর্বাধিক মহিলা মালিকানাধীন ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিট থেকে শুরু করে উৎপাদন ক্ষেত্রে সর্বচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি সমস্ত ক্ষেত্রেই দেশের সেরা বাংলা। আর এই তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রের সদ্য প্রকাশিত একটি রিপোর্টে। এই সাফ্যলের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন তথা দেশের অর্তনীতিতেও। এর উল্লেখও রয়েছে কেন্দ্রের এই রিপোর্টে। দেখা যচ্ছে, সার্বিকভাবে দেশের জিডিপি উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য। নজিরবিহীন গ্রস ভ্যালিউ অ্যাডেড বা জিভিএ’ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র।
এই রিপোর্টের কিছু অংশ টুইট করে বাংলার এই সাফল্যে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যবাসীকে। সম্প্রতি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের ‘অ্যানুয়াল সার্ভে অব ইউনিকর্পোরেটেড সেক্টর এন্টারপ্রাইজ’-এর তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান বিভাগ। তাতেই কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, দেশের মধ্যে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গই সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা মোটের মধ্যে ১৩.৮১ শতাংশ। পিছনে ফেলেছে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য গুজরাত, উত্তরপ্রদেশসহ অন্যান্য সমস্ত রাজ্যকে। এই ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকাতেও দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলা। ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটের সংখ্যার নিরিখেও দেশের এক নম্বরে রয়েছে বাংলা। উৎপাদন ক্ষেত্রে দেশের ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটের মধ্যে ১৬.০২ শতাংশই হল বাংলায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ মহিলা মালিকানাধীন ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিট তৈরি হয়েছে বাংলাতেই, যা প্রায় দেশের ৩৬.৪ শতাংশ। প্রসঙ্গত, রাজ্যে মহিলাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মহিলাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে আর্থিক সহয়তা সুনিশ্চিত করেছে রাজ্য।
২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজ্যকে শিল্পে দেশের মধ্যে ১ নম্বর করার টার্গেট নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করার পাশাপাশি সারা বছর ধরে ক্ষুদ্র শিল্পের অগ্রগতির জন্য প্রত্যেক জেলায় সিনার্জির আয়োজন করে রাজ্য। বিগত পাঁচ বছরে ৪৫টির বেশি সিনার্জি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তার মধ্যে অধিকাংশই হয়েছে বিগত দু’বছরে। এই সিনার্জির মাধ্যমেই শিল্পদ্যোগীদের সমস্যার সমাধান করে রাজ্য। আবার, ক্ষুদ্র শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য ঋণ প্রদানের অঙ্কও বেড়েছে অনেকগুণ। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ১৪ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে অর্থবর্ষের শেষে যা অন্তত ১ কোটি ৬০ লক্ষ কোটি ছাড়াবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যা ছিল ১ কোটি ৪৮ লক্ষ কোটি টাকা। এছাড়া রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে নগদ জোগাতে ভবিষৎ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে রাজ্য। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার জন ভবিষৎ ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার ঋণ প্রদানের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।