


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভিক্টোরিয়া জিগালিনার খোঁজ পায়নি দিল্লি পুলিস। নিখোঁজ নাবালক স্তাভ্যও। তবে তারা এখনও দেশ ছেড়ে পালায়নি। বাঙালি যুবক সৈকত বসুর রুশ স্ত্রী-সন্তান মামলায় শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ দিল দিল্লি পুলিস। বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আইনজীবী দেশের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি জানিয়ে দিলেন, লুক আউট সার্কুলার জারি হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে ভারত সরকারের যাবতীয় জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া গত ৫ জুলাই দিল্লিতে রাশিয়ান দূতাবাসে গিয়েছিলেন। কাউন্সেলার বিভাগে এক ঘণ্টা ছিলেন। তারপর বেরিয়ে যান। এছাড়া আপাতত আর কিছু জানা নেই। যা শুনেই বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন। শুনানির পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘৭ জুলাই দুপুর ২-১০ মিনিটে নাবালক সহ ওই রুশ মহিলাকে শেষবার দেখা গিয়েছে ডিফেন্স কলোনির ভাড়া বাড়িতে। তারপর থেকে খোঁজ নেই। দেশ ছেড়ে যে চলে যায়নি এত নিশ্চিত হচ্ছেন কী করে?’ জবাবে ঐশ্বর্য ভাট্টি বলেন, ‘ভিক্টোরিয়ার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিলের পর বিদেশ যাতায়াতের রেকর্ড নেই। ইমিগ্রেশন রেকর্ডও বলছে, ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল ভারতে এসেছেন ভিক্টোরিয়া। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করা হয়েছে। চলতি মাসের ৬ জুলাই শেষবার ২২০ টাকা লেনদেন করেছেন। মোবাইলের কলরেকর্ডও হাতে এসেছে। যদিও ৭ জুলাইয়ের পর থেকে মোবাইলের দুটি নম্বরই সুইচড অফ। পাঁচ বছরের স্তাভ্যও স্কুলে যায়নি। শেষ ৭ জুলাই অনলাইন ক্লাস করেছে। ভিক্টোরিয়ার মা ওলা জিঙ্গালিনার সঙ্গে কথা বলতে মস্কোয় ফোন করেছিল দিল্লি পুলিস। কিন্তু ফোন ধরেননি। উল্টে তিনি রাশিয়ান দূতাবাসে ফোন করে বলেছেন, মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।
বিচারপতির বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘অন্য নামে পাসপোর্ট করেও তো পাড়ি দিতে পারে? বিমান ছাড়াও অন্য কোনও মাধ্যমেও তো দেশের বাইরে চলে গেছে কি না, কী করে নিশ্চিত হওয়া যাবে?’ বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সমস্ত বিমানবন্দর সহ সব রাজ্যের প্রবেশ-প্রস্থানের পথে নজরদারি করুন। সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করুন। খুবই অবাক করা বিষয় যে, ওরা গেল কোথায়?’