


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। কখনও তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে, আবার কখনও জুটছে মার। কাজ করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামের জনসভা থেকে এনিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে বাংলা-বিদ্বেষী বলে সরাসরি তোপ দাগলেন তিনি। ভিড়ে ঠাসা ময়দানে উপস্থিত জনতার কাছে মমতা জানতে চান, ‘বাংলায় কথা বললেই কি বাংলাদেশি?’ উত্তর আসে, ‘না।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপি বাংলা-বিদ্বেষী। ওরা বাংলা ও বাঙালিকে নিশানা করছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। কেউ বাংলায় কথা বললেই ভিন রাজ্যে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। ওরা বাংলাকে পছন্দ করে না। তাই ওরা বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথকে অপমান করে।’
অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাশে আছি।’ রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কীভাবে পাশে আছে, এদিন তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মশ্রী প্রকল্পে ফিরে আসা শ্রমিকদের ৬০ দিন করে কাজ দিয়েছি। এবার ৭৫ দিন করে দেব। রাজ্যে ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। প্রত্যেককে ৫ হাজার করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমশ্রীর মাধ্যমে টাকা আর কর্মশ্রীতে কাজ পাচ্ছেন। ১০ হাজার শ্রমিককে বিভিন্ন স্কিলে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে নামানো হচ্ছে। জুটের ট্রেনিং দিয়ে কাজে লাগানো হবে।’ সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে এদিন মমতা বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব। শান্তির সঙ্গে বাঁচব। উন্নয়নের কাজে যুক্ত করব সবাইকেই। সবাইকে নিয়ে বাঁচব। একই বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান, কবি নজরুল ইসলামের কথা। এটাই সম্প্রীতি। আমি বাংলা ছেড়ে কোথাও যাই না। বাংলাকে বড্ড ভালোবাসি। বিজেপির সামনে মাথা উঁচু করেই চলব।’