


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: পুজো, উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নতুন পোশাক, আড্ডা এবং ভুড়িভোজের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাল গৌড়বঙ্গ। পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন মন্দিরে যেমন পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে, তেমনই এদিন চরম ব্যস্ততা ছিল বিভিন্ন রেস্তরাঁ এবং খাবার হোম ডেলিভারি সংস্থাগুলির। নববর্ষে সাবেকি বাঙালি পদে রসনা তৃপ্ত করেছেন প্রায় সকলেই। একই সঙ্গে ১৪৩২ সালকে এদিন স্বাগত জানাতে ছিল বাংলা সংস্কৃতি উপস্থাপনার বিভিন্ন প্রয়াসও।
মালদহে এদিন থেকে খুলে গিয়েছে মা জহুরা কালী মন্দির। প্রত্যেক বছর বৈশাখ মাসের মঙ্গল ও শনিবারে ধুমধাম করে পুজো দিতে জহুরা কালীতলায় হাজির হন জেলা ও বাইরের অসংখ্য মানুষ। নতুন বছরের প্রথম দিনই মঙ্গলবার থাকায় এদিন সেখানে ছিল ভক্তদের বিশাল সমাগম। পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় এদিন লাইন করে মঙ্গলচণ্ডী পুজো দিতে দেখা গিয়েছে গৃহবধূদের। পুরোহিতদেরও ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় রীতি মেনে হয়েছে সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো এবং হালখাতা।
বাজারে দেদার বিকিয়েছে মাছ, মাংস এবং কাঁচা আম। তবে অনেক পরিবারেই এদিন ছিল নিরামিষের আয়োজন। আবার বছরের প্রথম দিন জম্পেশ আমিষ আহার করেছেন অনেকেই। মানুষের চাহিদা মেনে সব রকমের রান্নারই ব্যবস্থা করেছিল রেস্তরাঁ এবং খাবার হোম ডেলিভারি সংস্থাগুলি। তাঁদের কয়েকজন বলেন, নিরামিষের মধ্যে শুক্তো,করলা দিয়ে ডাল,ধোঁকার ডালনা, মোচাঘণ্ট, পটলের নিরামিষ দোলমা, চাটনির চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। আমিষ খাবারের মধ্যে চাহিদার শীর্ষে ছিল মুড়িঘণ্ট, ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি চিতল সহ বিভিন্ন মাছের রকমারি পদ। খানিকটা পিছিয়ে ছিল মাংস। দেদার বিক্রি হয়েছে বাসন্তী পোলাও। মিষ্টির মধ্যে এদিন চাহিদা তুঙ্গে ছিল লাড্ডুর। দুপুরের মধ্যেই বিভিন্ন দোকানে লাড্ডুর স্টক ফুরিয়ে যায়।
অন্যদিকে, বর্ষবরণ বর্ণময় হয়ে থাকল রায়গঞ্জে। এদিন সকাল থেকেই সকলে নিজেদের মতো করে নানা অনুষ্ঠান নাচ, গান, শোভাযাত্রা, পুজোআচ্চার আয়োজন করেন। কেউ আবার প্রাচীন প্রথা মেনে কাদা খেলায় মাতেন। সঙ্গে এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে সরকারিভাবে ইসলামপুরে মুক্তমঞ্চে আয়োজিত হল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এই আয়োজনে প্রভাতফেরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এদিন রায়গঞ্জ শহরের বিবেকানন্দ মোড় থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রংবেরঙের মুখোশ, স্ট্যাচুকে সামনে রেখে বাঙালিয়ানার উদযাপন শুরু হয়। হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন খেলনা গাড়ি, পুতুল, মুখোশ সবই ছিল। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, শ্রীচৈতন্য, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মতো মুক্তমনা সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। যার শুরুর ইতিহাস নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ঢাকায়। রায়গঞ্জের সংস্কৃতিপ্রেমী ৪০টি সংগঠন মিলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ রায়গঞ্জে এই শোভাযাত্রার যাবতীয় আয়োজন করে।
নববর্ষে বালুরঘাট শহরে সকাল থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে শহরজুড়ে র্যালি করে সংস্কৃতিপ্রেমীরা। শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন ক্লাব ও নানা সংগঠন। বালুরঘাটের মিলন সঙ্ঘ ক্লাবের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রেসক্লাবেও এদিন নববর্ষের আড্ডা হয়। শুধু তাই নয়, নববর্ষ উপলক্ষ্যে বালুরঘাটের রেস্তরাঁগুলিতেও ব্যাপক ভিড় দেখা গিয়েছে। হোটেলগুলিতে রকমারি খাবারের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। বালুরঘাটের বুড়া কালীমন্দিরে পুজো দিতে ভিড়। - নিজস্ব চিত্র।