


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বাংলার আকাশে শরতের মেঘ। সুইডেনের স্টকহোমেও দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রবাসী বাঙালিরা। সেখানে নেই বাংলার শিউলিতলা, নেই পাড়ার মোড়ে ঢাকের বাদ্যি। তবু পুজো আসতেই মন উড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা দেশে। আলমারি থেকে বেরোচ্ছে যত্নে রাখা শাড়ি-পাঞ্জাবি। বাড়ির রান্নাঘরে নাড়ু-মোয়া তৈরিতে ব্যস্ত খুদেরা। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও বাঙালিয়ানাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চান তাঁরা। স্টকহোম পুজো কাউন্সিলের উদ্যোগে তাই এবারও তিথি মেনেই হবে দুর্গোৎসব। প্রবাসে কাজের ব্যস্ততায় সপ্তাহান্তে পুজো আয়োজনের চল রয়েছে। কিন্তু স্টকহোমের বাঙালিরা পুজো করেন বাংলার চেনা রীতিতেই। ষষ্ঠী থেকে দশমী, চারদিন ধরে চলবে দেবীর আরাধনা। সন্ধিপুজো, কুমারীপুজো, কুমড়োবলি থেকে সিঁদুরখেলা—কোনো কিছুতেই খামতি রাখতে চান না উদ্যোক্তারা। অষ্টমীর পুজোয় উপস্থিত থাকার কথা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের। নবমীর পুজোয় হবে কুমড়োবলি। বাঙালির দুর্গোৎসবে এই যোগ যেন সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে মিলনের বার্তাও দেয়। পুজোর চারদিনই থাকবে নিরামিষ খাবারের আয়োজন। শুধু মণ্ডপে নয়, বাড়িতেও এই কদিন নিরামিষ খান উদ্যোক্তা ও পরিবারের সদস্যরা। সেই রীতি মেনে চলে তাঁদের সন্তানেরাও।
কাউন্সিলের অন্যতম উদ্যোক্তা দেবযানী দে বলেন, সন্তানদের জন্ম সুইডেনে। আমরা চাই, ওরা বাঙালির আবেগকে এক করে রাখুক। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যও। সেই আবেগের উত্তরাধিকার পৌঁছে যাচ্ছে পরের প্রজন্মের হাতেও। এবার পুজোর পোস্টার, বিজ্ঞাপন এবং ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। মণ্ডপের মঞ্চসজ্জাতেও থাকবে তাদের হাতের ছোঁয়া। সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হবে হায়দরাবাদি ফুল। আর বাড়ির খুদেরা নিজের হাতে তৈরি করছে নাড়ু-মোয়া। পুজোর প্রস্তুতিতে এভাবেই জুড়ে যাচ্ছে পরিবারের প্রতিটি প্রজন্ম। পুজোয় শুধু বাঙালিরাই নন, যোগ দেন উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের প্রবাসীরাও। বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ১২ জন মূল সদস্যের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই আয়োজন তাই হয়ে উঠেছে মিলনমেলা। সেই সঙ্গে রয়েছেন মোট ২০ জন সদস্য। পুজোর পরে রয়েছে বিজয়া সম্মিলনি ও দীপাবলির অনুষ্ঠানও।