


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভাগীরথীতে জল থই থই। পাড় ছাপিয়েছে জল। বাঁকের ঘটির মুখ আটকাতে গঙ্গামাটি কোথায় মিলবে? পুণ্যস্নান সারতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে স্নানযাত্রীদের। কাটোয়ার প্রতিটি স্নানঘাটেই তাই পাঁচটাকা দরে গঙ্গামাটির তাল বিক্রি করছেন শহরের কিছু বাসিন্দা। সার দিয়ে তা কিনছেন পুণ্যার্থীরা। কাদামাটি বিক্রি করে ভালোই লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে।
দু’ দিন ধরে কাটোয়ায় ভাগীরথী থেকে জল নিতে পুণ্যার্থীর ঢল নামে। তাঁদের নিরাপত্তা দিতে পুলিস মোতায়েন রয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ী দশকর্মা দোকানগুলির লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে। বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী সমাগম হয় কাটোয়া শহরে। ভাগীরথী থেকে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে বর্ধমান, পূর্বস্থলীর জামালপুর, বোলপুর, গুসকরা, পানাগড় যান তাঁরা। ভাগীরথীর বিভিন্ন ঘাটে স্নান সেরে পুণ্যার্থীরা জল নিয়ে রওনা দেন। এবার ভাগীরথীতে কানায় কানায় জলে পূর্ণ। তাই পুরসভা থেকে প্রতিটি ঘাটেই সতর্কতামূলক বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাগীরথীতে প্রায়ই স্নান করতে এসে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে সচেতন হয়েছে পুরসভা। প্রশাসন থেকেও প্রতিটি ঘাটে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্নানঘাট বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তাই স্নান সারতে পুণ্যার্থীদের নাকাল হতে হচ্ছে। কিন্তু বাঁকের ঘটির মুখ আটাকানোর গঙ্গামাটি টইটম্বুর ভাগীরথী থেকে তোলা সম্ভব নয়। সে কথা আগাম আঁচ করেই শহরের কিছু বাসিন্দা কাদামাটির তাল পাকিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। পাঁচ টাকা করে একতাল গঙ্গামাটি বিক্রি করছেন। তাই বাঁক নিয়ে স্নানযাত্রায় অংশ নেওয়া পুণ্যার্থীদের কষ্ট করতে হচ্ছে না। রেডিমেড কাদামাটির তাল কিনে বাঁকের ঘটিতে লাগিয়ে তাঁরা রওনা দিচ্ছেন। কাটোয়া শহরের বাসিন্দা সন্দীপ সাহা, বাপ্পা পাল বলেন, এবারে ভাগীরথীতে যেরকম জল বেড়েছে, তাতে পুণ্যার্থীদের পক্ষে কাদামাটি সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা আগে থেকে কাদামাটি তুলে এনে বিক্রি করছি।
এক একজন ২০ টাকা দিয়ে চারটি করে কাদামাটির তাল কিনছেন। সারাদিনে দু’ শোর বেশি কাদামাটির তাল বিক্রি করেছি। দু’ দিনই কাটোয়া শহরে বাবা ভোলেনাথের মাথায় জল ঢালার জন্য ভিড় হয়। তাতে আমাদের গরিবের সংসারে দুটো বাড়তি পয়সা আয় হয়। বর্ধমান থেকে জল নিতে এসেছিলেন অনিমা দেবনাথ, নিখিল হাজরা। তাঁরা বলছেন, জলে ঝুঁকি নিয়ে কাদামাটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে না, হাতের কাছে সব পেয়ে যাচ্ছি, সুবিধেই হচ্ছে। কাটোয়া শহরের শ্মশানঘাট, কারবালাতলা মোড়, সুবোধস্মৃতি রোড, বাসস্ট্যান্ড, ছোট লাইন পাড়, জাজিগ্রাম, শিরিষতলা এলাকাগুলিতে পুলিস, অফিসার, সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন রাখা হয়েছে। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রয়েছে মহিলা পুলিসও। কাটোয়া বল্লভপাড়া ঘাটে পুলিস ক্যাম্প করা হয়েছে। কাটোয়ায় ভাগীরথীর ঘাটে ভিড়।-নিজস্ব চিত্র