


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ডিজিটাল অ্যারেস্ট থেকে ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড। দিন বাড়ছে সাইবার প্রতারণা। বাদ যাচ্ছেন না প্রবীণ থেকে তরুণরাও। আইন থাকলেও এখনও বন্ধ হয়নি বাল্যবিবাহ। অনেকে পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ছাড়াই বাড়িতে বসিয়ে দিচ্ছেন ভাড়াটিয়া। এই ধরনের একাধিক অপরাধ রুখতে এবার নাগরিক সুরক্ষায় পাড়া মিটিংয়ের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে বিধাননগর কমিশনারেট। প্রতিটি থানায় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পাড়া মিটিং করছে পুলিশ। নিজের এলাকায় পুলিশ অফিসারদের পেয়ে এলাকার মানুষও তাঁদের নানা কথা তুলে ধরছেন। পুলিশের দাবি, একেবারে শহরের প্রতিটি কোনায় সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটছে সাইবার ক্ষেত্রে। বেশিরভাগ মানুষ এখন স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। অনেকে না জেনে এবং কেউ কেউ লোভে পড়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। তারপর জীবনের সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন। অপরাধের কিনারা করতেও সময় লাগছে। কারণ, সাইবার প্রতারকরা টাকা হাতানোর পর দ্রুত বিভিন্ন ওয়ালেটে স্থানান্তর করছে। পাড়া মিটিংয়ে পুলিশ নাগরিকদের সামনে বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরছে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট, বিনিয়োগ প্রতারণা, কেওয়াইসি আপডেট, গিফট ভাউচার, সেক্সটরশন, টাকা রিডিম ইত্যাদি। এই ধরনের ফোন পেলে নাগরিকরা যাতে সচেতন হন, তার জন্যই এই উদ্যোগ।
শহরে বেশ কিছু এলাকা রয়েছে, যেগুলি আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে। সেখানে সরকারিভাবে বিয়ের বয়স না হলেও অনেকেই মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিচ্ছেন। সেই কারণে ওই সব অঞ্চলেও পাড়া মিটিংয়ে গিয়ে বাল্যবিবাহ নিয়ে সচেতন করছে পুলিশ। সেই সঙ্গে শিশু পাচারের বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হচ্ছে। তাই বিয়ে এবং পাচার রুখতে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত, তার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সেক্টর ফাইভের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স, বাগুইআটি, নারায়ণপুর, ইকোপার্ক থানায় একাধিক পাড়া মিটিং হয়েছে। অন্য থানা এলাকাতেও চলছে। আগামীতে অন্যান্য জায়গায় পাড়া মিটিং হবে বলে জানিয়েছে কমিশনারেট। যাতে নাগরিকরা সুরক্ষিত থাকেন। -নিজস্ব চিত্র