


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রূপশ্রী প্রকল্প। গরিব পরিবারের তরুণীদের বিয়েতে সরকারের এককাকালীন অনুদান। তৃণমূল আমলে তৈরি এই জনমুখী প্রকল্প এখনও চলছে। তবে বদলানো হয়েছে প্রকল্পের ফর্ম। ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যজুড়ে আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের এপিক নম্বর দিতে হচ্ছে। এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা রাখতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বিধাননগর পুরসভাও। সরেজমিনে তদন্তের ক্ষেত্রে চালু করা হয়েছে জিও ট্যাগ। বিধাননগর পুরসভার ৪১টি ওয়ার্ডেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দপ্তরের কর্মীরা কখন যাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন তার লোকেশন পৌঁছে যাচ্ছে দপ্তরে।
২০১৮ সালের ১ এপ্রিল গোটা রাজ্যে চালু হয়েছিল রূপশ্রী প্রকল্প। রাজ্যে কোনো জনমুখী প্রকল্প বাতিল করা হবে না, পালাবদলের পর জানিয়েছিল বিজেপি সরকার। যে পরিবারগুলির আয় বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম কেবলমাত্র সেই পরিবারের তরুণীরাই বিয়ের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন করা যায়। দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন বেআইনি। আবেদন যাচাই করতে প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে। সব ঠিক থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর পাত্রীর নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিকেশন হয়। শেষে অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান পৌঁছয়।
পালাবদলের পর যে নতুন ফর্ম করা হয়েছে, সেখানে আবেদনকারীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না, তা লিখতে হচ্ছে। এপিক নম্বরের সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বরও দিতে হচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তাহলে বিকল্প হিসাবে পরের কলামে পরিবারের বাবা-মা বা ভাই-বোনের এপিক নম্বর দিতে হচ্ছে। ‘আবেদনকারী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন কি না এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন আছে কি না’ তাও উল্লেখ করতে হচ্ছে। বিধাননগর পুরসভা সরেজমিনে তদন্তের ক্ষেত্রে জিও ট্যাগ চালু করেছে। যাকে জিপিএস ম্যাপ ফটোও বলা হয়। আবেদনকারীর বাড়ির অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, সময়, তারিখ সবই ছবির মধ্যে থাকবে। দপ্তরের কর্মীরা যে আবেদনকারীর বাড়িতে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়েছেন এটি তার প্রমাণ। পুরসভার দাবি, কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।