


পাটনা, ৭ এপ্রিল: এযেন কোনো সিনেমার দৃশ্য। উচ্চ ভোল্টেজ ইলেকট্রিক টাওয়ারের একদম মাথায় উঠে বসলেন এক তরুণী। দাবি, তিনি যাকে ভালোবাসেন সেই যুবকে তাঁকে বিয়ে করতে হবে। না হলে সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হবেন তিনি। একদম অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই। ঘটনাটি ঘটে বিহারের বৈশালী জেলায়। প্রেমিককে বিয়েতে বাধ্য করার জন্য এমনই জীবন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে উত্তাল স্থানীয় মানুষজন থেকে পুলিশ প্রশাসন।
প্রেমিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঝামেলা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যুগলের। তার পরেই এই সিদ্ধান্ত। সোজা কিছু না ভেবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ১.৩২ লাখ ভোল্টের একটি ১০০ ফুট উচ্চ টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি। বিয়ের দাবি পূরণ না হলে সেখান থেকে লাফ দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন ওই তরুণী। কিন্তু তিনি যাকে বিয়ে করতে চায়ছিলেন, সেই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। এই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে। বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় জমায় ওই এলাকায়। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ও বিদ্যুত্ দপ্তরকে। তারপরেই ওই বৈদ্যুতিক টাওয়ারের বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এলাকার সাব-ইন্সপেক্টরসহ স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মহিলাটিকে নিচে নেমে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অনুরোধ করা সত্ত্বেও, তিনি রাজি হননি বরং টাওয়ার থেকে আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন। বারবার অনুরোধ ব্যার্থ হওয়ায় অভিনব পন্থা অবলম্বন করে পুলিশ। পুলিশ তাকে জানান সে যদি নীচে নেমে আসে তাহলে তার প্রেমিককে খুঁজে বের করে এক ঘন্টার মধ্যে তার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে এই মরিয়া উদ্ধার কার্য। অন্ধকার নেমে আসতে অতিরিক্ত আলোর ব্যাবস্থা করা হয়। সময় গড়াতে পুলিশ তার প্রেমিককে খুঁজে ঘটনাস্থলে এনে উপস্থিত করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও আলোচনার পর অবশেষে মহিলাটিকে টাওয়ার থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে সফল হন উদ্ধার কর্মীরা।