


ন্যায়ের পক্ষে সত্যবাদিতা যার প্রধান অবলম্বন, সেই প্রাক্তন বিচারকের বিচার হচ্ছে ধর্মাবতারের কাছে। বিচারপতি জ্যোতিষ আদালতের কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনার সমস্ত বর্ণনা দিয়ে শাস্তি প্রার্থনা করে। জ্যোতিষের হয়ে তার মেজ ছেলে ঋত্বিক সওয়াল করে আদালতে। সত্য-অসত্য, ন্যায়-অন্যায়, পক্ষ-বিপক্ষর নিরন্তর কথা চালাচালির শেষ মৃত্যুতে। আইনজীবীর আদর্শ, অবসর জীবনে সংসারের টানাপোড়েন নিয়ে এক টানটান উত্তেজনার নাটক ‘ধর্মাবতার’। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ও মেঘনাদ ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় সম্প্রতি অ্যাকাডেমিতে মঞ্চস্থ হল ‘সায়ক’-এর এই নতুন নাটক।
আইনজীবীর দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া জীবন আলেখ্য দিয়ে সাজানো এই প্রযোজনা। জ্যোতিষ তার বিচারক জীবনে একজন ধর্ষককে ফাঁসির সাজা দেয়। আইন মোতাবেক উচ্চ আদালত থেকে আসামি বেকসুর খালাস হয়ে জ্যোতিষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধ ও উস্কানিমূলক কথা বলতে থাকে। যা জ্যোতিষ সহ তার পরিবারকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন করে। তার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রী, সংসারের নানা ঘটনা প্রবাহ জ্যোতিষকে মানসিক ভাবে অস্থির করে তোলে। পরিবারে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয়েছে টানটান উত্তেজনায়। তবে পুরো নাটকের কেন্দ্রে জ্যোতিষ।
মেঘনাদ ভট্টাচার্য এই চরিত্রটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা দেখতে গিয়ে নিজেকে মনে হয়েছে ওঁর প্রতিবেশী। জ্যোতিষের স্ত্রী মনোরমার (রুনা মুখোপাধ্যায়) মঞ্চ উপস্থিতি অল্প সময়ের জন্য হলেও সুন্দর। এছাড়াও ধূর্জটি দে, গৌতম সেন, প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, ইন্দ্রাজিতা চক্রবর্তীর অভিনয় ভালো লাগে। মঞ্চ পরিকল্পনা, আলোক ভাবনায় সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিক-পিয়ালীর কাজ প্রশংসনীয়।
তাপস কাঁড়ার