


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার আরামবাগের আরাণ্ডি-২ পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি। তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল। অনাস্থায় প্রধানের অপসারণের পর মঙ্গলবার আরামবাগ ব্লক প্রশাসনের তরফে এদিন প্রধান নির্বাচনের দিন স্থির করা হয়। তৃণমূল সদস্যদের একাংশের সমর্থনে এদিন বিজেপির সদস্য প্রধান নির্বাচিত হন। এনিয়ে আরামবাগে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
আরামবাগের বিডিও সন্দীপ পাঠক বলেন, এদিন আরাণ্ডি-২ পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচন হয়েছে। তাতে ১১ জন সদস্যের সমর্থনে বিজেপির প্রধান হয়েছেন বিকাশ মালিক।
সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি বোঝাপড়া করে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচন করেছে। ওই পঞ্চায়েতে আমাদের একজন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু, এদিন প্রধান নির্বাচনের সভায় তিনি হাজির হননি।
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অনুপ সাঁতরা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের প্রধান সহ সদস্যরা পঞ্চায়েতে আসছিলেন না। তার ফলে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া ও উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটছিল। তারমধ্যেই তৃণমূল সদস্যরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি সরকারে উন্নয়নে শামিল হতে আবেদন জানান। সেইমতো আইনি প্রক্রিয়া করা হয়। তার জেরে এদিন প্রধান নির্বাচন হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্ব এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। আরাণ্ডি-২ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য অনুপ সাঁতরা বলেন, মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে যা চেয়েছে, সেই ভাবেই এদিন সকলের সমর্থনে প্রধান নির্বাচন হয়েছে। বিগত দিনের মতো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, আরাণ্ডি-২ পঞ্চায়েতে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারমধ্যে বিজেপির সদস্য সংখ্যা চার। তাঁদের মধ্যে একজন সদস্য আগেই প্রয়াত হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে একজন সিপিএমের অন্যান্যরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হন। রাজ্যে পালাবদলের পর এই পঞ্চায়েতেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। তার জেরে মাস খানেক আগে সেখানকার তৃণমূল সদস্যদের একাংশ ও বিজেপির তিন সদস্য মিলে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। ব্লক প্রশাসন পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী এদিন প্রধান নির্বাচন করে। তাতে ১১ জন সদস্য হাজির হন। তৃণমূলের আটজন সদস্য বিজেপির বিকাশ মালিককে সমর্থন করলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হন। প্রধানের নির্বাচনের পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা গেরুয়া আবির খেলায় মেতে ওঠেন।