


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিপ্লবী, বাংলার বরেণ্য মনীষীদের অপমান করছেন বিজেপি নেতারা। এমনই অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিকালে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের কর্মসূচি নিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। একই সঙ্গে এদিন ছিল শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর প্রয়াণ দিবস উদযাপন। ক্ষুদিরাম ও নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মমতা। তাঁর সঙ্গে এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। মমতা বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি নেতাদের অসম্মানজনক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। নেতাজিকে নিয়ে ওই ধরনের মন্তব্য আমরা মেনে নেব না।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশের জন্য যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্যকে আমরা ধিক্কার জানাই। স্বাধীনতার জন্য নেতাজি ও অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে লড়াই করেছিলেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলতে পারি না। আজ আমরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছি। তাঁরা সকলেই আমাদের গর্ব। আমরা শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য কোনো অনুষ্ঠান করি না।’
কর্মসূচি শেষে মমতা যখন শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় ছাড়ছেন, তখন রাস্তার ধারে দাঁড়ানো কয়েকজন লোক তৃণমূল নেত্রীকে উদ্দেশ করে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। যারা স্লোগান দিচ্ছিল, তাদের বক্তব্য, নেতাজি সংক্রান্ত কর্মসূচিতে তারা কোনো বাধা দেয়নি।
মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে ১০০ মিটার দূরে দু’জন বিজেপি কর্মী মোবাইলে রিল বানানোর জন্য স্লোগান দিয়েছে। পথচলতি মানুষ কেউই শুনতে পায়নি।’ এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘দেশের ইতিহাসে লেখা হবে, ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার তিন মাস পরও চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে মমতাকে।’